ম্যাচ জিতলেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় পাকিস্তানের

শেষ ওভারে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ২৮ রান। বোলার ছিলেন শাহিন আফ্রিদি, ব্যাটিংয়ে দাসুন শানাকা।

প্রথম বলে চার, এরপর টানা তিন বলে ছক্কায় ৪ বলেই ২২ রান তুলে ফেলেন শানাকা। তবে শেষ দুই বলে যখন ৬ রান দরকার—সেই সমীকরণ আর মেলাতে পারেননি শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক। শাহিন দুটি ডেলিভারিই ওয়াইড ইয়র্কার করেছিলেন। এর মধ্যে শেষ বলটি ওয়াডের মার্ক ছুঁয়েই উইকেটকিপারের গেছে। আম্পায়ার বৈধ ডেলিভারি হিসেবে গণ্য করার পর শ্রীলঙ্কা কোচ জয়াসুরিয়াকে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। হতাশ ছিলেন শানাকাও। পাকিস্তানের করা ৮ উইকেটে ২১২ রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কা থেমেছে ৬ উইকেটে ২০৭ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর

এর আগে শ্রীলঙ্কার রান তাড়ায় বড় একটা সময়জুড়ে অবশ্য সবার দৃষ্টি ছিল ১৪৭–এর দিকে। পাকিস্তানের সেমিফাইনালে খেলা নির্ভর করছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অন্তত ৬৫ রানের জয়ে। ১৬তম ওভারে শ্রীলঙ্কা ১৪৮ নম্বর রানটি নিতেই পাকিস্তানের শেষ চারের আশা শেষ হয়ে যায়। সুপার এইটের গ্রুপ টু থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয় নিউজিল্যান্ডের। একই গ্রুপ থেকে আগেই সেমিতে জায়গা করেছিল ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কা সুপার এইটের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে আগেই ছিটকে গিয়েছিল।

টসে হেরে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান দুই শর বেশি রান করেছিল দুই ওপেনারের ব্যাটে চড়ে। সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ১৭৬ রান। ফখর ৪২ বলে ৮৪ রান করে আউট হলেও ফারহান তিন অঙ্ক ছোঁয়া পর্যন্ত টিকেছিলেন। ৬০ বলে ১০০ রান করে শেষ ওভারে আউট হন ফারহান। পাকিস্তানের হয়ে এ দুজন ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে রান তুলতে পারেননি। ১৬তম ওভারে প্রথম উইকেট হারানো পাকিস্তান শেষ ২৫ বলে ৩৬ রান তুলতে হারায় ৮ উইকেট।

শেষের এই ব্যাটিং–ব্যর্থতা অবশ্য শেষ পর্যন্ত বড় কোনো পার্থক্য গড়ে দেয়নি। পাকিস্তান ৫ রানে ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের সমান ৩ পয়েন্ট জোগাড় করলেও রান রেটে পিছিয়ে থাকায় সেমির আগে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ই নিতে হচ্ছে।

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২১২/৮ (ফারহান ১০০, ফখর ৮৪, উসমান ৮*; মাদুশঙ্কা ৩.৩৩, শানাকা ২/৪২)।

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০৭/৬ (শানাকা ৭৬*, রত্নায়েকে ৫৮, মিশারা ২৬; আবরার ৩/২৩, নেওয়াজ ১/২১)।

ফল: পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   3   =