‘কুমির মনের আশা পূরণ করবে’—এমন কুসংস্কার ছড়িয়ে ভক্তদের ঠকানোর অভিযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (র.) মাজার পুকুরের ঐতিহ্যবাহী কুমিরকে কেন্দ্র করে এক অভিনব প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মাজার পুকুরের কুমিরের খাদ্য বণ্টনের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানতের হাঁস, মুরগি ও গবাদিপশু আত্মসাৎ এবং বিক্রির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও মাজারের সাধারণ ভক্তদের কাছ থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সাধারণ ও অসচেতন মানুষ মানত হিসেবে যেসব হাঁস, মুরগি, ছাগল বা গরু নিয়ে আসেন, তা জমা রাখার কথা বলে নিজের জিম্মায় নেন মেহেদী হাসান। পরবর্তীতে সেসব পশুপাখি কুমিরকে না খাইয়ে তিনি নিজেই ভক্ষণ করেন অথবা গোপনে বাজারে বিক্রি করে অর্থ পকেটস্থ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রটি মাজারের ঐতিহ্যকে পুঁজি করে সুকৌশলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সরলমনা নারী ও পুরুষদের বুঝিয়ে বলা হয়, “এই অলৌকিক কুমির মানুষের মনের আশা পূরণ করতে পারে।” এমন ধর্মীয় কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস ছড়িয়ে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে আর্থিকভাবে ঠকানো হচ্ছে, অন্যদিকে কুমিরের নামে আসা খাবার চুরির মাধ্যমে মাজারের পবিত্রতা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
মাজারে আসা সাধারণ দর্শনার্থী ও সচেতন স্থানীয় বাসিন্দারা এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে ঢাল বানিয়ে এই ধরনের প্রতারণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই মেহেদী হাসানকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বাগেরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিকে কুসংস্কার ও প্রতারণামুক্ত করতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বাগেরহাট, বুধবার, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (৩ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ)

