নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা): সাভারে মাদক কারবারিদের সঙ্গে অপেশাদার যোগাযোগ ও অনিয়মের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ব্যবস্থা নেওয়ার ধারাবাহিকতায় এবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক পরিদর্শককে ক্লোজ করা হয়েছে। ক্লোজ হওয়া ওই আলোচিত কর্মকর্তার নাম মাসুদুর রহমান।
সোমবার (১ জুন, ২০২৬) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিব মিনা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে ক্লোজ করা হয়। আদেশে প্রশাসনিক কারণ দর্শানো হলেও বিভাগীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনৈতিক যোগাযোগ ও সুনির্দিষ্ট কিছু অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই ধরণের গুরুতর অভিযোগে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ চার পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হয়েছিল। পুলিশের পর এবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় সাভারের মাদক সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশের বিষয়টি নতুন করে খবরের শিরোনামে এলো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পরিদর্শক মাসুদুর রহমান ও তার টিমের বিরুদ্ধে সাভারের শীর্ষ মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা আর্থিক সুবিধা নেওয়া, মাদকবিরোধী অভিযানে পক্ষপাতিত্ব এবং নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তবে এই আদেশ জারির পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি।
সাভারে সাম্প্রতিক সময়ে মাদককে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত শামীমের আস্তানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) জেরিন সুলতানা ও কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মাসুমকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে তারা বিশেষ সমঝোতায় ক্ষমা চেয়ে মুক্তি পান বলে জানা যায়।
এছাড়া, আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকার একটি গাঁজার আড্ডায় অভিযান ও মাসোহারা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিদের হামলায় অধিদপ্তরের কয়েকজন মাঠপর্যায়ের সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। ওই হামলার পেছনে স্থানীয় তালিকাভুক্ত গাঁজা ব্যবসায়ী পারভীন ও তার মেয়ে মুক্তির অনুসারীরা জড়িত ছিল বলে জানা যায়।
এরও আগে, সাভার পৌর এলাকার পালোয়ানপাড়ায় মাদক সম্রাট শামীমের স্পটে মাদক কারবারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই টেলিভিশন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। তাদের কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করার ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাভারে মাদক নির্মূল করতে হলে শুধু মাঠপর্যায়ের ছিঁচকে কারবারিদের ধরলেই হবে না, বরং প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা তাদের আসল গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আরও কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

