পিয়া, আনিস আলমগীর ও সোমা ইসলামসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ ও ‘অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগে দেশের সুপরিচিত ৬ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করেছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর, টেলিভিশন উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম, জনপ্রিয় মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী, মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং মডেল ও অভিনেত্রী তুষ্টি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ‘রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য মিল্লাত হোসেন শাহবাগ থানায় এই অভিযোগটি দায়ের করেন। শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজিবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগটি জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য এসআই আশরাফ আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ: অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জামিনে থাকা সাংবাদিক আনিস আলমগীর কারামুক্তির পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জুলাই আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। টেলিভিশন উপস্থাপিকা সোমা ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন টকশোতে জুলাই আন্দোলনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সহযোগী হিসেবে আন্দোলনকারী ও আহতদের কটাক্ষ করেছেন।

অন্যদিকে, মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধে ঢাকা প্রেস ক্লাব এলাকায় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ এবং শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া, মারিয়া কিসপট্টা জুলাই আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী আন্দোলন’ হিসেবে প্রচার করেছেন এবং মডেল তুষ্টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটিকে ‘প্রতারণার মাস’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে সাইবার ইউনিট: এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাজিবুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগের বিষয়গুলো যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার সংশ্লিষ্ট, তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। তদন্তের প্রয়োজনে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিষয়টি পুলিশের বিশেষায়িত সাইবার ইউনিটেও পাঠানো হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   3   =