বিনোদন প্রতিবেদক:
উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম আইকনিক সিনেমা ‘শোলে’। আর এই ছবির অবিনশ্বর ভিলেন ‘গাব্বার সিং’ চরিত্রে প্রয়াত অভিনেতা আমজাদ খানের অভিনয় আজও এক মাইলফলক। সত্তরের দশকে সেই জনপ্রিয়তাকে ধারণ করে বাংলাদেশে নির্মিত হয়েছিল এর অফিশিয়াল রিমেক ‘দোস্ত দুশমন’। মূল ছবিতে আমজাদ খানের করা সেই জটিল ও নিষ্ঠুর গাব্বার সিং চরিত্রটি এদেশের পর্দায় রূপদান করেছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অ্যাকশন হিরো জসিম। ভিলেন হিসেবে জসিমের সেই অভিনয় ঢালিউডের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে।
বাংলাদেশি দর্শকদের মনস্তত্ত্ব আর নিজস্ব অভিনয়শৈলী দিয়ে জসিম ‘গাব্বার সিং’ চরিত্রটিকে যেভাবে দেশীয় প্রেক্ষাপটে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, তা ছিল এককথায় অনবদ্য। তবে এই কালজয়ী অভিনয়কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাই সিনেমা পাড়ায় একটি মুখরোচক গুঞ্জন বা ‘মিথ’ প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই দাবি করেন, জসিমের এই অতিমানবীয় অভিনয় দেখে স্বয়ং আমজাদ খানও নাকি তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। চলচ্চিত্র গবেষক ও বোদ্ধাদের মতে, এই তথ্যের কোনো সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ভিত্তি বা প্রমাণ নেই; এটি সম্পূর্ণ মনগড়া একটি গল্প।
প্রকৃতপক্ষে, জসিমের অভিনয়ের মাহাত্ম্য বোঝাতে এমন কোনো বিদেশি প্রশংসাপত্রের প্রয়োজনও নেই। জসিম কোনো অনুকরণ না করে, নিজের স্বভাবসুলভ ও দুর্দান্ত অভিনয়শৈলী দিয়েই চরিত্রটিকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন—সেটিই ছিল তাঁর জন্য যথেষ্ট।
সেই শিহরণ জাগানো দৃশ্য:
‘দোস্ত দুশমন’ ছবির একটি নির্দিষ্ট দৃশ্য আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে আছে। ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা নিজেরই দলের তিন ডাকাত সদস্যকে জসিম যখন এক নাটকীয় পরিস্থিতিতে নিজের রিভলভার দিয়ে গুলি করেন, সেই দৃশ্যে তাঁর এক্সপ্রেশন, সংলাপ প্রক্ষেপণ এবং অট্টহাসি ছিল রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। তৎকালীন সময়ে ভিলেন হিসেবে জসিম যে দেশের চলচ্চিত্রে কতটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সেরা ছিলেন, এই একটি দৃশ্যই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
খলনায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে পরবর্তীতে জসিম যেভাবে বাংলার অ্যাকশন হিরো ও সাধারণ মানুষের প্রিয় নায়কে পরিণত হয়েছিলেন, তার সূচনাটা গড়ে দিয়েছিল এই ‘দোস্ত দুশমন’-এর মতো কালজয়ী পারফরম্যান্স। ঢালিউডের সোনালী যুগের ইতিহাসে জসিমের এই ‘গাব্বার সিং’ রূপটি তাই চিরকাল এক অনন্য মাস্টারপিস হিসেবেই বিবেচিত হবে।

