নব্বই – এর দশকের মন্দলোকেরা!

এক সময় বাংলা চলচ্চিত্রে নায়ক যতটা জনপ্রিয় ছিল, ভিলেনরাও ঠিক ততটাই দর্শকদের মনে ভয় আর উত্তেজনা তৈরি করতেন। ডিপজলের যুগ শুরুর আগ পর্যন্ত বাংলা সিনেমার পর্দা কাঁপানো চার ভয়ংকর ভিলেন ছিলেন — রাজীব, হুমায়ূন ফরিদী, আহমেদ শরীফ এবং অমল বোস

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শকের চোখে পড়েছেন রাজীব। নব্বই দশকের জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা স্বপ্নের পৃথিবী এবং লুটতরাজ-এ তার ভয়ংকর ও নির্মম ভিলেন চরিত্র আজও অনেক দর্শকের মনে গেঁথে আছে। তার সংলাপ, চোখের চাহনি এবং উপস্থিতিই সিনেমায় আলাদা উত্তেজনা তৈরি করতো।

অন্যদিকে হুমায়ূন ফরিদী ছিলেন এক অনন্য ধরণের ভিলেন। তিনি শুধু ভয় দেখাতেন না, অভিনয়ের গভীরতা দিয়ে চরিত্রকে বাস্তব করে তুলতেন। আনন্দ অশ্রু ছবিতে তার অভিনীত ভদ্রবেশী, ঠান্ডা মাথার চরিত্রটি আজও দর্শকদের শিউরে তোলে। সম্পত্তির লোভে নিজের ভাইপোকে ইনজেকশন দিয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ করে ফেলার সেই নিষ্ঠুর চরিত্র বাংলা সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় ভিলেন হিসেবে বিবেচিত হয়।

আহমেদ শরীফ ছিলেন এমন একজন অভিনেতা, যিনি অসংখ্য ছবিতে ভিলেন হিসেবে অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন। যদিও নির্দিষ্ট কোনো চরিত্র অনেক সময় আলাদা করে মনে না থাকলেও, তার উপস্থিতি মানেই ছিল গল্পে ভয়ংকর মোড় আসার ইঙ্গিত।

আর অমল বোসকে অনেক দর্শক ভিলেনের চেয়ে কমেডিয়ান হিসেবেই বেশি মনে রাখেন। বিশেষ করে কাজের মেয়ে ছবিতে শাবনূরের বাবার চরিত্রে তার অভিনয় এখনও দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে। অনেকের কাছেই অমল বোস মানেই যেন “ইত্যাদির নানা” অথবা শাবনূরের স্নেহময় বাবা।

বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সোনালি সময়ে এসব অভিনেতারা শুধু ভিলেন ছিলেন না, তারা ছিলেন গল্পের প্রাণ। তাদের অভিনয় ছাড়া নব্বই দশকের বাংলা সিনেমার ইতিহাস যেন অপূর্ণই থেকে যায়।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 10   +   5   =