তুরাগে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ মাতবরের তাণ্ডব: ৭ দোকান দখল ও ভাইকে মারধরের অভিযোগে থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

তুরাগের বাউনিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও চিহ্নিত ভূমিদস্যু খোরশেদ মাতবরের বিরুদ্ধে ৭টি দোকান দখল ও ভাইকে মারধরের অভিযোগে থানায় জিডি দায়ের। বিস্তারিত পড়ুন।

রাজধানীর তুরাগ থানাধীন বাউনিয়া এলাকায় আওয়ামী লীগের চিহ্নিত ভূমিদস্যু এবং স্থানীয় ‘অঘোষিত সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত মো. খোরশেদ আলমের (খোরশেদ মাতবর) বিরুদ্ধে এবার আপন ভাইয়ের দোকানপাট জোরপূর্বক দখল, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও খোরশেদ মাতবরের আপন ছোট ভাই আবদুল আজিজ জর্জ (৬০) বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ভুক্ত করেছেন, যার নম্বর ৭৬৪ (তারিখ: ১২/০৭/২০২৬)।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুরাগ থানাধীন বাউনিয়া বাজারে সিএস ও এসএ দাগ নং-২৮৪-এর অন্তর্ভুক্ত জায়গায় আবদুল আজিজ জর্জের মালিকানাধীন ও দীর্ঘদিনের ভাড়া দেওয়া ৭টি দোকানঘর রয়েছে। গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:০০ ঘটিকায় খোরশেদ মাতবর (৬২) দলবল নিয়ে বাউনিয়া বাজারে গিয়ে দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করেন এবং দোকানদারদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি জোরপূর্বক ৭টি দোকানেই তালা ঝুলিয়ে দেন এবং ব্যবসায়ীদের বাজার থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

জিডির বিবরণ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, দোকান ভাঙচুর ও তালাবদ্ধ করার খবর পেয়ে ওই দিন রাত আনুমানিক ৮:০০ ঘটিকায় আবদুল আজিজ জর্জ বাউনিয়া সাকিনস্থ নিজ বাসার সামনে খোরশেদ মাতবরের কাছে এই অন্যায়ের কারণ জানতে চান। এতে খোরশেদ মাতবর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রকাশ্য দিবালোকে আপন ছোট ভাইয়ের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। এ সময় আশেপাশের মানুষ এগিয়ে এলে তিনি আবদুল আজিজ জর্জকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। বর্তমানে দোকানগুলো তালাবদ্ধ থাকায় এবং ভেতরে থাকা মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় প্রায় ৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভাড়াটিয়ারা।

স্থানীয়দের চোখে ‘বাউনিয়ার ফ্যাসিস্ট সম্রাট’:

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খোরশেদ মাতবর দীর্ঘ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে এসেছেন। স্থানীয়রা তাকে বাউনিয়ার ‘অঘোষিত সম্রাট’ বলে আখ্যাত করেন। জমি দখল, নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে তিনি এলাকায় এক ধরনের ফ্যাসিস্ট ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস সাধারণ মানুষের ছিল না। এমনকি নিজ পরিবারের সদস্যরাও তার এই উগ্র ও বৈরী আচরণের শিকার।

বাজার কমিটির সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ জর্জ পরিবারের নিরাপত্তা ও নিজের ব্যবসার অধিকার ফিরে পেতে আইনের আশ্রয় নেন। গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জিডিটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) রওশন জামানকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

এই বিষয়ে তুরাগ থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বাজারের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও ফ্যাসিস্ট চরিত্রের খোরশেদ মাতবরের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   5   =