নিজস্ব প্রতিবেদক:
গতকাল থেকে শুরু হওয়া ছাত্রদের আন্দোলন-কে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে মাঠে নেমেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা-কর্মীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক গুজব ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
ভুয়া পরিচয়পত্রের আড়ালে অনুপ্রবেশ
সরেজমিনে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসররা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ ও ছাত্রদের আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই আন্দোলনের মূল চেতনাকে নস্যাৎ করতে তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভুয়া আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মিছিলে ও সমাবেশে ঢুকে পড়ছে। সাধারণ পোশাকে মিশে গিয়ে তারা ভেতর থেকে উস্কানিমূলক স্লোগান ও সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যাতে এই নৈরাজ্যের দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের বন্যা
মাঠ পর্যায়ের অনুপ্রবেশের পাশাপাশি সাইবার জগতেও সক্রিয় রয়েছে এই চক্রটি। ফেসবুক, টিকটক ও এক্স (সাবেক টুইটার)-সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরনো ও এডিটেড ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ তৈরি করা এবং ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করাই এই সংঘবদ্ধ অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নেপথ্যে ইন্ধনদাতা ও সমন্বয়
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে আত্মগোপনে থাকা এবং দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ইন্ধনে এই চক্রটি কাজ করছে। ছাত্রদের আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য তারা বিশাল অংকের ফান্ডিং ও কৌশলগত নির্দেশনা দিচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সতর্কবার্তা
আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে রাস্তায় নামেননি। মিছিলে বহিরাগত ও সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তারা নিজেরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে varsity ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছাত্রদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং ভুয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে উস্কানি দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। গুজব রটনাকারী ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন: সোহেল হাওলাদার, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল)

