টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি: পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল

প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ | দুপুর ০১:১৫

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সাতকানিয়াসহ ৫টি উপজেলায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচল-এ

চট্টগ্রাম: টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যাদুর্গত এসব অঞ্চলে বর্তমানে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনা খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। এই উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে শুধু সাতকানিয়াতেই সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

সাতকানিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ খাটের ওপর কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছেন। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা যেমন— উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ফলে এসব দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

সাতকানিয়া ছাড়াও চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকা জেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো এখন জরুরি খাদ্য সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দৈনিক পূর্বাচল-কে বলেন, “বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক (হাই অ্যালার্ট) অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত প্রতিটি পয়েন্টে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও শুকনো খাবার পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।”

দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে স্পিডবোটসহ জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 2   +   2   =