মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী হলেও তারা বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে ভয় পাচ্ছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের মতে, তেহরান আশঙ্কা করছে যে যদি তারা আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে তারা নিজেদের কট্টরপন্থী লোকদের হাতে অথবা মার্কিন বাহিনীর হাতে প্রাণ হারাতে পারে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা অতীতে আর কখনো দেখা যায়নি এবং এর ফলেই তেহরান এখন আলোচনার টেবিলে বসতে উদগ্রীব হয়ে আছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে জানানো হয়েছিল যে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়া বা আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র যে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল, ইরান তা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করেনি, তবুও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে পাকিস্তানে একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য একটি বিকল্প এবং কার্যকর পথ খুঁজে বের করা, যা উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্বীকার করেছেন যে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, এই বার্তা বিনিময়কে কোনোভাবেই প্রথাগত ‘আলোচনা’ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে যে ধরনের সংবেদনশীলতা রয়েছে, আরাগচির এই মন্তব্য মূলত সেই চাপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সম্মানজনক শর্ত ছাড়া তারা কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। যখন হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল, তখন ট্রাম্প দেখাতে চাইছেন যে তাঁর কঠোর নীতি ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির খবর আসায় এই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। পাকিস্তানের প্রস্তাবিত বৈঠকটি যদি সফল হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন


