বিনোদন ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬,
ঢালিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফের বর্ণিল জীবন ও কর্মজীবন নিয়ে বিশেষ আয়োজন। নায়ক থেকে খলনায়ক হয়ে ওঠার গল্প এবং তাঁর অভিনীত কালজয়ী সিনেমার ইতিহাস জানুন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে আহমেদ শরীফ এক উজ্জ্বল, অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অবিস্মরণীয় নাম। পর্দায় তাঁর দুর্দান্ত অভিনয় আর শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ঢালিউডকে সমৃদ্ধ করেছে দশকের পর দশক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র।
শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন ১৯৪৩ সালের ১২ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলার বানিয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান অভিনেতা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা এই মানুষটি পরবর্তীতে চলচ্চিত্র জগতে নিজের অভিনয় দক্ষতায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান।
নায়ক থেকে পর্দা কাঁপানো খলনায়ক আহমেদ শরীফের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটেছিল প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ ছবির মাধ্যমে। এই কালজয়ী ছবিতে তিনি প্রধান নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘বন্দুক’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি সুপারহিট হওয়ার পর থেকেই তিনি ঢালিউডের অন্যতম শক্তিশালী ও জনপ্রিয় খলনায়ক হিসেবে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন।
অভিনয়ের বিশাল সাম্রাজ্য ও নির্মাণ দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি প্রায় ৮০০-রও বেশি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত কালজয়ী সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘তিন কন্যা’, ‘দেনমোহর’, ‘বন্দুক’, ‘ক্ষতিপূরণ’ ও ‘রাজকুমার’ অন্যতম। শুধু অভিনয়ই নয়, নাটক ও টেলিফিল্ম নির্মাণেও তিনি ছিলেন সমান সফল। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে— ‘ক্ষণিক বসন্ত’, ‘ফুল ফুটে ফুল ঝরে’ এবং ‘মাইরের ওপর ওষুধ নাই’।
শিল্পী সমিতির নেতৃত্ব অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের মানুষদের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন অগ্রণী। ১৯৮৪ সালে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’ প্রতিষ্ঠার সময় তিনি প্রথম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আরও দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক এবং চারবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে শিল্পীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ব্যক্তিগত জীবন পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী মেহরুন আহমেদের সঙ্গে সুখী দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছেন। তাঁদের একমাত্র কন্যাসন্তান আফিয়া মুবেশ্বীরা। একজন সফল অভিনেতা, দক্ষ সংগঠক ও গুণী নির্মাতা হিসেবে আহমেদ শরীফ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গুণী এই শিল্পীর প্রতি রইলো দৈনিক পূর্বাচল পরিবারের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
আহমেদ শরীফ, বিনোদন সংবাদ, দৈনিক পূর্বাচল।

