নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ জুলাই ২০২৬
দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল অর্থনীতি বিনির্মাণে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ (১ জুলাই) থেকে দেশব্যাপী বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে একীভূত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে ধাপে ধাপে ট্রেড লাইসেন্স ফি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন, হাসপাতালের বিল, এবং পরিবহন টোলসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবার অর্থ সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধ করা যাবে।
একটি কোডেই সব সমাধান: কমবে নগদ অর্থের ব্যবহার
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) জন্য আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হতো। তবে ‘বাংলা কিউআর’ চালুর ফলে একজন মার্চেন্ট বা দোকানদারের জন্য একটি মাত্র কোডই যথেষ্ট হবে। গ্রাহকরা তাদের যেকোনো ব্যাংক কিংবা বিকাশ, রকেট, নগদের মতো এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
এই ব্যবস্থার ফলে বাজারে নগদ অর্থের (Cash) ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে খুচরা টাকার সংকট, ছেঁড়া টাকা বা জাল নোটের ঝুঁকি এবং বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের ঝামেলা থেকেও মুক্তি পাবেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
ট্রেড লাইসেন্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ব্যবহার
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ডিজিটাল লেনদেনকে তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে দিতে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নতুন বা নবায়ন করা সব ট্রেড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানে ‘বাংলা কিউআর’ প্রদর্শন ও ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন ক্যাশলেস পদ্ধতিতে গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। একইভাবে বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও এই সেবা চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুতই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। পর্যায়ক্রমে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবার বিল পরিশোধের আওতায় আনা হবে এই একীভূত কিউআর কোডকে।
চ্যালেঞ্জ শুধু অবকাঠামো নয়, প্রয়োজন সচেতনতা
অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

