৫ শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও টানা দুই মাস যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা এখন খাদের কিনারায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাঁচটি মৌলিক শর্ত নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের আলোচনার টেবিলে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রধান ৫টি শর্ত নিচে তুলে ধরা হলো:

১.যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই বিধিনিষেধ কেবল নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, কোনোভাবেই তা স্থায়ী হবে না।

২.বর্তমানে ইরানের হাতে থাকা ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই মজুত পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রাখতে হবে। ইরান এই প্রস্তাবকে শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছে।

৩.অবরোধ প্রত্যাহার ইস্যুতে দুই পক্ষই নিজ অবস্থানে অনড়। ইরানের দাবি, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—চূড়ান্ত চুক্তির আগে কোনো অবরোধ তোলা হবে না।

৪. একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান বিদেশে তাদের আটকে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্ত দিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তারা।

৫.সবচেয়ে বড় চমক এসেছে ক্ষতিপূরণের দাবিতে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পাঁচ শর্তের মারপ্যাঁচে শান্তি আলোচনা এখন কার্যত অচলাবস্থায়। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতি এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।


About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 1   +   6   =