স্পোর্টস ডেস্ক • দৈনিক পূর্বাচল
প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে যেন ২০১৮ সালের জাপান ম্যাচের সেই অতিপ্রাকৃতিক রূপকথারই পুনরাবৃত্তি ঘটালো বেলজিয়াম। সিয়াটেলের লুমেন ফিল্ডে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেনেগালকে স্তব্ধ করে দিল বেলজিয়ানরা। অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তের (১২০+৫ মিনিট) নাটকীয় পেনাল্টি গোলে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কাটল ইউরোপের রেড ডেভিলসরা।
প্রথমার্ধে সেনেগালের রাজত্ব
ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দের বাইরে থাকা বেলজিয়ামকে চেপে ধরে আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগাল। ম্যাচের ২৫ মিনিটেই ডেডলক ভাঙেন হাবিব দিয়ারা। সাদিও মানের ক্রস থেকে ইসমাইলা সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে রিবাউন্ড থেকে বল জালে জড়ান দিয়ারা (১-০)। পিছিয়ে পড়ে বেলজিয়াম সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও কেভিন ডি ব্রুইনা ও ডোকুদের আক্রমণগুলো রুখে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক দিয়াও। প্রথমার্ধে ৫৬ শতাংশ বল দখলে রেখে যোগ্য দল হিসেবেই এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেনেগাল।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ ও বেলজিয়ামের ধস
বিরতির পর ম্যাচের ৫১ মিনিটে লুমেন ফিল্ডকে উল্লাসে মাতান ইসমাইলা সার। নিয়াকাতের লম্বা পাস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে বেলজিয়ামের তারকা গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তিনি (২-০)। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বেলজিয়ামের বিদায় যখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় আসল নাটক।
৩ মিনিটের সেই অবিশ্বাস্য টর্নেডো!
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে বেলজিয়ামের ত্রাতা হয়ে আসেন রোমেলু লুকাকু। মুনিয়ারের নিচু ক্রস থেকে নিয়ার পোস্টে ডিফেন্ডারকে ছিটকে দিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৮৯ মিনিটে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন ইউরি তিলেমান্স। ৩ মিনিটের এক অবিশ্বাস্য ঝড়ে ২-২ সমতায় ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় বেলজিয়াম।
১২৫ মিনিটের পেনাল্টি নাটক ও তিলেমান্সের জয়সূচক গোল
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় মোমেন্টাম পুরোপুরি বেলজিয়ামের পক্ষে থাকলেও ১০৯ মিনিটে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন সেনেগালের এমবায়ে। এরপর ১১৭ মিনিটে বেলজিয়ামের লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
তবে ম্যাচের আসল ক্লাইম্যাক্স তখনো বাকি। ১১৯ মিনিটে বক্সের ভেতর তিলেমান্সকে সিস ফাউল করা হলে ভিএআর (VAR) রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেনেগাল শিবিরের তুমুল প্রতিবাদের মুখেও ম্যাচের ১২০+৫ মিনিটে ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ইউরি তিলেমান্স।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (১২০+১২ মিনিট) সেনেগালের পেপ সারের ফ্রি-কিক গোলবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে রেফারির শেষ বাঁশি বাজে। আর তাতেই ৮৫ মিনিট পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেও এক বুক বিষাদ নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় সেনেগালকে।

