এফডিসি এখন কবরস্থানে পরিণত হয়েছে, সিনেমা চলে গেছে কোমায়’: আক্ষেপ কিংবদন্তি সোহেল রানা

বিনোদন ডেস্ক • দৈনিক পূর্বাচল

প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৬

তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, কিংবদন্তি অভিনেতা, সফল প্রযোজক ও পরিচালক—সোহেল রানা। সময়ের পরিক্রমায় রুপালী পর্দা থেকে দীর্ঘদিন দূরে আছেন। কাজের বাইরে আড্ডা-হুল্লোড় থেকেও নিজেকে সবসময় গুটিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। তবে আড়ালে থাকলেও দেশের চলচ্চিত্রের খোঁজখবর সবসময়ই রাখেন তিনি।

তারুণ্যের সোনালী সময়গুলো সিনেমাকে ঘিরেই কাটিয়েছেন। সে সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করে সোহেল রানা বলেন, “এক সময় চাঞ্চল্যে ভরপুর এফডিসিতে শুটিং ঘিরে সকাল থেকে সন্ধ্যা কখন যে পার হয়ে যেতো টের পেতাম না। প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, শওকত আকবর, আজিমদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সিনেমার উজ্জ্বল সময় পার করেছি এবং প্রতিনিয়তই তাদের কাছ থেকে শিখেছি।”

শিল্পী সমিতির গোড়াপত্তনের ইতিহাস

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচন ও সামাজিক মাধ্যমে অনুজদের উৎসবমুখর আনন্দ দেখে সোনালী অতীতে ফিরে যান এই কিংবদন্তি। সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, “১৯৮৪ সালে আমার প্রস্তাবেই সর্বপ্রথম এই সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। কতো সব বাঘা বাঘা শিল্পী এই সমিতির সদস্য ছিলেন! ওই সময়কার সব শিল্পীরা প্রথম আমাকেই সভাপতি নির্বাচিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি বিনয়ের সঙ্গে তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ‘নায়করাজ’ রাজ্জাক ভাইকে সমিতির সভাপতি করার প্রস্তাব রাখি। আমার প্রস্তাবে সহকর্মীরা একমত পোষণ করে রাজ্জাক ভাইকে সভাপতি নির্বাচিত করেন। পরবর্তীতে আমাকে প্রযোজক সমিতি এবং পরিচালক সমিতির সদস্যরা দুইবার সভাপতি পদে নির্বাচিত করেছিলেন।”

‘আগে তো শিল্পী হতে হবে, তারকা তো বহু দূরের বিষয়’

এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ‘তারকা শিল্পী’র সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এই প্রসঙ্গে সোহেল রানা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “১২০০ সিনেমা হল থেকে নেমে এখন ২০০-এর কম হলে এসে ঠেকেছে। এখানে কীভাবে আপনারা অনেক তারকা শিল্পীর অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন? আমি সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, বর্তমানে ক’জন শিল্পী রয়েছেন যারা শহর-গ্রামগঞ্জে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করতে পেরেছেন? আগে তো শিল্পী হতে হবে, তারকা তো বহু দূরের বিষয়।”

‘চলচ্চিত্র কোমায় চলে গেছে’

ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছি সিনেমা কোমায় চলে গেছে। ধীরে ধীরে আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। এটা বললে বোধহয় ভুল বলা হবে না যে, কফিনের শেষ পেরেকটা মারা হয়ে গেছে। মানুষ কিন্তু পারতপক্ষে কবরস্থান কিংবা শ্মশানে যেতে চায় না, এফডিসি তো বর্তমানে কবরস্থানে পরিণত হয়েছে।”

সিনেমার এই দূরবস্থা থেকে পরিত্রাণের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কি না—জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, “কখনো কখনো হয়তো মানুষ লাইফ সাপোর্ট থেকেও ফিরে আসে। কিন্তু চলচ্চিত্র তার পুরনো দিনে ফিরে যেতে পারবে না। তবুও আমি, আলমগীর, উজ্জল, প্রযোজক হাবিবুর রহমান এবং ফরিদুর রেজা সাগর সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি, দেখা যাক কি হয়।”

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 6   +   3   =