আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে ইরানের তেল রপ্তানিতে আবারও নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই সাথে ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে ৫%।
ঢাকা, বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬): মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর জের ধরে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। একই সাথে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। আজ বুধবার (৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন হুঁশিয়ারি ও বিমান হামলা
মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই উসকানিমূলক আচরণের জন্য তেহরানকে “কঠোর পরিণতি” ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ও রাডার ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে প্রায় ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে বড় লাফ
যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে, যার ফলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
চুক্তির মেয়াদ সংকুচিত করল মার্কিন ট্রেজারি
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান একটি ভঙ্গুর ও শর্তসাপেক্ষ চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন অর্থ বিভাগ (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) গত মাসে এক ঘোষণায় আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল রপ্তানির সাময়িক অনুমোদন দিয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনার জেরে গতকাল মঙ্গলবার ওই বিশেষ অনুমোদন বা ওয়েভার বাতিল করেছে মার্কিন প্রশাসন। ফলে তেল রপ্তানির পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা এক ধাক্কায় কমে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার কূটনৈতিক আলোচনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

