রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজে ৫ অস্ত্রধারী শনাক্ত

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক পূর্বাচল

ঢাকা: ১৬ জুন, ২০২৬ | দুপুর ১:১০ মিনিট

চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পাঁচ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করা গেলেও পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দুর্ধর্ষ ‘রায়হান গ্রুপ’-এর সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল। স্থানীয়দের দাবি, এই রায়হান বাহিনী রাউজানের স্থানীয় রাজনৈতিক দলীয় ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের রোমহর্ষক মিশন

হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদ’ বাহিনীর অনুগত রায়হান গ্রুপের ক্যাডাররা সরাসরি এই মিশনে অংশ নেয়। চিহ্নিত হওয়া পাঁচ অস্ত্রধারী হলো— কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, রাউজান সদর ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান এলাকার মোহাম্মদ জাহেদ এবং মোহাম্মদ আবছার।

ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে ইলিয়াস ও দিদারুল মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে এসে তাকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে আরও বেশ কয়েকটি গুলি নিশ্চিত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

খুনিদের অপরাধ খতিয়ান

পুলিশ ফাইল সূত্রে জানা গেছে, এই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে:

  • শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান: রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও নগরীর বিভিন্ন থানায় ১২টি হত্যাসহ মোট ২৪টি মামলার আসামি।

  • দামা ইলিয়াস: ৫টি হত্যাসহ ১৮টি মামলার আসামি।

  • মোহাম্মদ ইউসুফ: দুটি হত্যাসহ ৪টি মামলার আসামি।

  • দিদার, জাহেদ ও আবছার: এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক  সহিংস অপরাধের মামলা রয়েছে।

নেপথ্যে কর্ণফুলীর বালুমহাল ও পাহাড়ের আস্তানা

স্থানীয় বাসিন্দা ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং চম্পাতলী ও খেলার ঘাট এলাকার বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ কাজ করেছে। নিহত মাকসুদুল ওই অঞ্চলের বালুমহালগুলোর ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন, যা রায়হান বাহিনীর নজরদারিতে ছিল।

অপরাধ শেষে খুনিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে রাউজানের পূর্ব সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। স্থানীয়রা জানান, কদলপুর ও পাহাড়তলী সংলগ্ন দুর্গম পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা রয়েছে। মিশন শেষ করেই তারা পার্বত্য অঞ্চলের ওই দুর্গম এলাকায় আত্মগোপন করে।

রাজনীতিবিদ ও পুলিশের বক্তব্য:

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে। দাগি অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এবং রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে খুনিদের শতভাগ শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পাহাড়ি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত যুবদল নেতার জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 #মাকসুদুল_হক_চৌধুরী #রাউজান_হত্যাকাণ্ড # #যুবদল_নেতা_খুন #রায়হান_বাহিনী #দৈনিক_পূর্বাচল

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 9   +   8   =