বাগেরহাট প্রতিনিধি, দৈনিক পূর্বাচল
প্রকাশ: ০২ জুন, ২০২৬ | সকাল ০৮:৩৫
বাগেরহাট: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নেওয়া সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে দিঘির উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
এর আগে গতকাল সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামলে শিশু ফাতেমাকে দিঘিতে থাকা কুমিরটি টেনে গভীর পানিতে নিয়ে যায়। ওই সময় ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেচামেচি শুরু করলে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের টিম উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
মাজার সংশ্লিষ্ট ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফাতেমা আক্তার মাজার এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান। এর বাইরে শিশুটির আর কোনো বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় দোকানি বিনা জানান, রাতে ঘাটে বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন। শিশুটি পানিতে নামার পরপরই কুমিরটি তাকে আক্রমণ করে টেনে নিয়ে যায়। ঘাটে উপস্থিত লোকজন ও শিশুটি চিৎকার করলেও ভয়ে কেউ পানিতে নামার সাহস পাননি। ভোরে যখন ফায়ার সার্ভিস শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে, তখন তার শরীরের কয়েক জায়গায় কুমিরের কামড়ের গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মাজার দিঘির এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

