আসিফ মাহমুদ ও হাসনাতের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ: ‘ব্যক্তিগত নয়, উপজেলার এডিপি বরাদ্দ’ দাবি দুই নেতার

কুমিল্লা প্রতিনিধি 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মোট ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া এই অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগে বলা হয়, সাবেক উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি এবং এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলে সরকারের সাবেক ও বর্তমান এই দুই তরুণ নেতা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের মূল অভিযোগ

গত শনিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া প্রথম এই অভিযোগটি সামনে আনেন। গণমাধ্যমের কাছে দাবি করে তিনি বলেন, “জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।”

মোস্তাক মিয়ার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত চাউর হলে রাতেই তার সাথে ফোনে সরাসরি কথা বলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ এবং এই ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চান।

পরবর্তীতে এই বিষয়ে মোস্তাক মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন,

“আমি বলছি না যে, তারা এই টাকা ব্যক্তিগত কাজে নিয়েছেন। তবে দুটি উপজেলার জন্য যদি এত বড় অঙ্কের বরাদ্দ নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে অন্য উপজেলার মানুষ তো বৈষম্যের শিকার হন। যারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন, তাদের কর্মকাণ্ডেই যদি এমন আঞ্চলিক বৈষম্য দেখা যায়, তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।”

উক্ত বরাদ্দ সঠিক খাতে ব্যয় হয়েছে কিনা বা জেলা পরিষদ তা তদারকি করেছে কিনা—জানতে চাইলে প্রশাসক জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হয়তো কর্মকর্তারা এটি তদারকি করেছেন, তবে বর্তমান পরিষদও এখন এর খোঁজখবর নিচ্ছে।

‘টাকা পকেটে ভরিনি, ওটা এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ’: হাসনাত আবদুল্লাহ

অভিযোগের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গত শনিবার বিকেলে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টির স্পষ্টীকরণ করেন। তিনি বলেন,

“এই টাকা কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি, এটি ছিল সংশ্লিষ্ট উপজেলার রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ। দেবিদ্বার উপজেলায় কোন খাতে, কী কাজে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের কাছেও কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার নিখুঁত হিসাব সংরক্ষিত আছে। তারা চাইলে যেকোনো সময় সেই তথ্য প্রকাশ করতে পারে।”

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সমালোচনা করে তরুণ এই সংসদ সদস্য আরও বলেন,

“প্রশাসক মহোদয় যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, তাতে সাধারণ মানুষের মনে হতে পারে আমরা নিজেরা এই টাকা পকেটে ভরেছি। প্রকৃতপক্ষে এই অর্থ দেবিদ্বারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য দেওয়া হয়েছে। এটি জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাতের কোনো বরাদ্দ নয়, বরং এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) প্রকল্পের অনুমোদিত বরাদ্দ।”

পর্যবেক্ষকদের অভিমত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এমন কাদা-ছোড়াছুড়ি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতাকে প্রকাশ করে। তবে যেহেতু বিষয়টি জনগণের করের টাকার সাথে সম্পৃক্ত, তাই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই বরাদ্দের ব্যয়ের খতিয়ান প্রকাশ করে সব ধরনের ধোঁয়াশা দূর করা।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 6   +   4   =