বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা, ১৭ জুলাই ২০২৬:
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের ভয়াবহ দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে বর্তমান সরকারকে এক চরম ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকার দেশের সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। প্রতি বছর দেশ থেকে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার না হতো, তাহলে দেশের অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যেত। বর্তমানে আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো আগে সমাধানের চেষ্টা করছে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত শাসনামলে রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচার না হলে দেশের সমতলে ও পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরও অনেক মৌলিক সমস্যার সমাধান এতদিনে হয়ে যেত।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রতিনিধিদের ৮ দফা দাবি
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নেতারা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন এবং সরকারের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
আলাদা ভূমি কমিশন গঠন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জমি সুরক্ষায় একটি স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করা।
-
জাতীয় কনভেনশন: সমতলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন।
-
পরিচয়গত পরিবর্তন: ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে সাংবিধানিকভাবে ‘জাতিভিত্তিক পরিচয়’ নিশ্চিত করা।
-
সাংবিধানিক স্বীকৃতি: আদিবাসী হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
-
ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা: আইনগতভাবে পৈতৃক ও ঐতিহ্যগত ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা।
-
সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণে একটি কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা।
-
ঋণসুবিধা: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণসুবিধা চালু করা।
-
উচ্ছেদ বন্ধ করা: বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বা ‘রিজার্ভ ফরেস্ট’ (সংরক্ষিত বন)-এর নামে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
‘কাউকে আলাদা করে নয়, সবাইকে নিয়ে এগোব’
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করে তাদের সকল যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারপ্রধান প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেছেন—তিনি ও তাঁর সরকার এমন একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন, যেখানে কোনো জাতি, ধর্ম বা গোষ্ঠীর প্রতি বিন্দুমাত্র বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে নিয়ে এগোবো, কাউকে আলাদা করে নয়।

