ঢামেক মর্গে লাশের ওপর বাণিজ্য: সিন্ডিকেটের পকেটে লাখ লাখ টাকা, সন্তানেরা পড়েন কানাডা-অস্ট্রেলিয়ায়!

ঢাকা মেডিকেল মর্গ সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক পূর্বাচল

ঢাকা, ০৮ জুলাই ২০২৬

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সেকান্দর, বাবুল ও রামু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। মর্গের টাকায় সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা ও বিলাসী জীবনযাপন। পড়ুন বিস্তারিত।

একদিকে আপনজনকে হারানোর তীব্র শোক, অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে এসে আর্থিক হয়রানির শিকার—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসহায় মানুষ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও, ঢামেক মর্গকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী এবং অমানবিক সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেকান্দর নামের এক ব্যক্তির পরিবার এবং তার আপন দুই ভাই বাবুল ও রামুর হাতে। যারা সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে মর্গে কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে বাবুল হাসপাতালের অফিস সহকারী পদের কর্মচারী হলেও, তাকে বেশিরভাগ সময় দাপ্তরিক কাজের চেয়ে মর্গের ভেতরেই সক্রিয় থাকতে দেখা যায়।

বহিরাগতদের নিয়ে ৭-৮ জনের শক্তিশালী চক্র

মর্গের ভেতরের এই সিন্ডিকেটে শুধু সরকারি কর্মচারীই নন, রয়েছে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৭ থেকে ৮ জন বহিরাগত সদস্য। সহযোগিতার ছদ্মবেশে এরা মর্গের সামনে সার্বক্ষণিক ওত পেতে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শোকগ্রস্ত স্বজনেরা যখন আইনি প্রক্রিয়া বুঝতে হিমশিম খান, তখন এই বহিরাগতরাই সাহায্যের নামে এগিয়ে আসে এবং লাশ দ্রুত ছাড়ানো ও কাটাছেঁড়ার ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা না দিলে স্বজনদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মর্গের টাকায় বিলাসী জীবন: সন্তানরা বিদেশে, চড়েন দামি গাড়িতে

মর্গে আসা ভুক্তভোগীদের চোখের জলে ভারী হওয়া টাকা দিয়েই গড়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিপুল সম্পদের পাহাড়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সেকান্দর ও রামুর সন্তানেরা দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত আছেন। তাদের কেউ পড়াশোনা করছেন অস্ট্রেলিয়ায়, আবার কেউ আছেন কানাডায়।

শুধু তাই নয়, দেশেও তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত বিলাসী। নামে-বেনামে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। ব্যবহার করেন বিলাসবহুল দামি গাড়ি। মর্গের এক সাধারণ কর্মচারীর আয়ের উৎস নিয়ে এখন খোদ হাসপাতাল পাড়াতেই কানাঘুষা চলছে।

অভিযোগ জানা নেই কর্তৃপক্ষের

মর্গের এই চরম অনিয়ম ও আর্থিক হয়রানির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মমতাজ আরার কাছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ‘দৈনিক পূর্বাচল’-কে বলেন, “ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়া, এখানে কোনো প্রকার টাকা নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই।”

তবে মর্গকে ঘিরে এমন সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ তারা এখনও পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 5   +   4   =