জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ধোপাখালী মাঠপাড়া গ্রামে নিজের রাস্তার জায়গা দখল করে গাছ লাগিয়ে স্বজনদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পারভিন খাতুনের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে গ্রামে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন বাসিন্দারা। ৭ বছর আগে স্বামীর আত্মহত্যার পেছনেও পারিবারিক অশান্তির অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের ধোপাখালী মাঠপাড়া গ্রামে জমি ও রাস্তা নিয়ে এক চরম পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। নিজের জমিতে গাছ লাগিয়ে স্বজনদের জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা এবং প্রতিবেশীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মৃত আনারুল কবিরের স্ত্রী পারভিন খাতুনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চরম অতিষ্ঠ হয়ে অভিযুক্ত পারভিন খাতুনের বিরুদ্ধে গ্রামের বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারভিন খাতুনের চাচাতো ভাসুর ওহিদুল ইসলাম (শান্তি) এবং ননদের জামাই লাটু মিয়া এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, মৃত আনারুল কবির তাদের চাচাতো ভাই ও শ্যালক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর থেকেই স্ত্রী পারভিন খাতুন দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত রয়েছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, পারভিন খাতুনের সৃষ্ট এই চরম পারিবারিক অশান্তি সহ্য করতে না পেরে প্রায় সাত বছর আগে তার স্বামী আনারুল কবির ফেসবুকে “আমি নীরবে চলে গেলাম” লিখে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
ওহিদুল ইসলাম শান্তি ও লাটু মিয়া আরও জানান, আনারুল কবির জীবিত থাকা অবস্থাতেই পারভিন খাতুনের একের পর এক হয়রানি ও রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে তার ছোট দেবর আমিনুর রহমান গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন এবং বর্তমানে জীবননগর পৌর শহরে বসবাস করছেন।
রাস্তার সংকটের বিষয়ে তারা বলেন, “আমরা সামাজিক ও পারিবারিক কারণে রাস্তার জন্য প্রত্যেকে তিন ফুট করে জমি ছেড়ে রেখেছি। কিন্তু পারভিন খাতুন নিজের রাস্তার জায়গা দখল করে প্রথমে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি আরও কিছু জমি কিনে সেখানে গাছ লাগিয়েছেন। এখন নিজের রাস্তার জায়গা বন্ধ করে তিনি আমাদের ছেড়ে দেওয়া জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নিতে চাইছেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন।”
এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি, পারভিন খাতুন যদি আসলেই রাস্তা চান, তবে প্রথমে তাকে নিজের রাস্তার জায়গায় লাগানো গাছ ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী সবাই মিলে যে রাস্তার জায়গা ছেড়েছেন, সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যথায় এভাবে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবেশীদের হয়রানি করা মেনে নেওয়া হবে না। এই সামাজিক হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

