এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলেননি শিক্ষামন্ত্রী: উসকানিতে ছিল বখাটেরা | দৈনিক পূর্বাচল

বিশেষ প্রতিবেদন

সোহেল হাওলাদার, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল:

অডিও ক্লিপে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যের আসল প্রেক্ষাপট ফাঁস। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে রাজপথে নামিয়েছিল কিছু বখাটে। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করেছেন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, মন্ত্রীর বক্তব্যের একটি নির্দিষ্ট অংশকে প্রেক্ষাপট ছাড়া (আউট অব কনটেক্সট) ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগের কিছু বখাটে নেতাকর্মী ও সুযোগসন্ধানী তরুণ-তরুণী।

কী ছিল সেই অডিও ক্লিপে? ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডিংটিতে ঢাকা সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর ফোনালাপ শোনা যায়। সেখানে আইসিটি পরীক্ষার দিন ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন এবং পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে তিনি নিজেই যুক্তি তুলে ধরেছিলেন।

কর্মকর্তাদের বোঝাতে গিয়ে মন্ত্রী নিজের মেয়ের উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বৃষ্টিতে ভিজলে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘এরা তো ফার্মের মুরগি। মাথায় বৃষ্টির পানি পড়লে আমার মেয়েরও জ্বর চলে আসে।’ মূলত শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে, বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা দিলে তারা যেন অসুস্থ না হয়ে পড়ে, সেই যুক্তিতেই কর্মকর্তাদের সামনে তিনি এই ঘরোয়া শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন। ফোনালাপের শেষ দিকেও অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ কণ্ঠে ওই শিক্ষার্থীকে মন্ত্রী বলেন, ‘তুমি এখন বাসায় গিয়ে আম্মুকে বলো একটা গরম কফি দিতে। কফি খেয়ে পড়তে বসে যাও।’

উসকানি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলা মন্ত্রীর এই বক্তব্যটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে মোড় দেওয়া হয়। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কিছু বখাটে ছেলে-মেয়ে ও সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগ ও ক্ষোভকে পুঁজি করে জলঘোলা করার চেষ্টা করে। তারা অডিওর পেছনের আসল সহানুভূতিশীল প্রেক্ষাপট আড়াল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে যে— মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ‘অপমান’ করেছেন। সরলমনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে ও বিভ্রান্ত করে তারা রাজপথে নামিয়ে আনে।

সংসদে দুঃখ প্রকাশ ও শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি: এই বিভ্রান্তিকর প্রচারণার জেরে বৃষ্টির মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ টানা দুই দিন বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও লংমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করে। একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসদে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো অবমাননাকর মনোভাব তার ছিল না।

মন্ত্রীর এই দুঃখ প্রকাশ এবং আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক উসকানির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ভুল বুঝতে পারে। ফলশ্রুতিতে তারা মন্ত্রীর পদত্যাগের মূল দাবি থেকে সরে আসে এবং পরীক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার সংক্রান্ত নতুন ৬ দফা দাবি পেশ করে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   6   =