পারস্য উপসাগরজুড়ে ইরান ও প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র পাল্টাপাল্টি হামলার সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। প্রায় তিন সপ্তাহের ধারাবাহিক হামলার পরও দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি বলেই এতে ইঙ্গিত মিলছে। খবর স্কাই নিউজের
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির গ্যাস স্থাপনায় সীমিত সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আনুমানিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই স্থাপনা পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়বে।
এ প্রসঙ্গে তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের কূটনীতিক ইসমাইল বাঘাই বলেন, সামরিক আগ্রাসনের মুখে থাকা কোনো দেশের কাছ থেকে সংযম আশা করা যায় না। যারা এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাদের দিকেই সংযমের আহ্বান জানানো উচিত।
বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এর আগে ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড-এ হামলা চালানোর পরই পাল্টা আঘাত হানে তেহরান।
এদিকে পরিস্থিতির তীব্রতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা থেকে বিরত থাকতে এবং ইরানকেও একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে বাঘায়ি বলেন, যারা আপনাকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে বলেও খবর রয়েছে। এমন পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো বড় ঝুঁকিতে পড়বে—যার প্রভাব পড়বে তেল, গ্যাস, হিলিয়াম, প্লাস্টিক ও সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।


