এবার টাকা লাগবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে! মেটার নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর নেপথ্যে কী?

তারিখ: ১৮ জুন, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক (দৈনিক পূর্বাচল):ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে বিশেষ সুবিধা পেতে এখন থেকে গুণতে হতে পারে টাকা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে বিপুল বিনিয়োগের খরচ তুলতে ‘প্লাস’ সংস্করণের নতুন সাবস্ক্রিপশন মডেল আনছে মেটা। জেনে নিন বিস্তারিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের যোগাযোগের ধরনকে আমূল বদলে দিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, ব্যক্তিগত আলাপচারিতা কিংবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও ভার্চুয়াল মিটিং—সবকিছুই সহজ হয়েছে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। একইভাবে ইনস্টাগ্রামও ব্যবহারকারীদের বৈশ্বিক পরিসরে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রিয় তারকা বা কনটেন্ট নির্মাতাদের অনুসরণ করা, ছবি ও ভিডিও উপভোগ করা—এসবই এতদিন ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই বিনামূল্যে করা যেত। তবে এখন থেকে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর কিছু বিশেষ সুবিধা ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের পকেট থেকে অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’ সম্প্রতি ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ এবং ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’। এই বিশেষ পরিষেবাগুলোর জন্য ব্যবহারকারীদের মাসিক নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হচ্ছে।

এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট নির্মাতা এবং মেটা এআই ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এআই-ভিত্তিক সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা আরও উন্নত ও প্রফেশনাল সুবিধা চান, তাদের জন্য বিভিন্ন প্রিমিয়াম বা উন্নত সংস্করণ নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

কেন মেটার এই পেইড মডেল?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিনিয়োগের ব্যয় সামাল দিতে মেটার এমন উদ্যোগ প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। তাদের ধারণা, বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে মেটা বর্তমানে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে এবং সেই বিনিয়োগের আর্থিক ভিত্তি নিশ্চিত করতেই এই নতুন আয়ের উৎস খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মেটা এআই অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। ফলে শুধু প্রথাগত বিজ্ঞাপননির্ভর আয়ের ওপর নির্ভর না থেকে প্রতিষ্ঠানটি আরও স্থায়ী ও পূর্বানুমানযোগ্য রাজস্বের উৎস গড়ে তুলতে চায়। এদিকে এআই প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে অনলাইনে তথ্য অনুসন্ধান ও কনটেন্ট ব্যবহারের ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জের মুখে মেটা

অবশ্য বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, মেটা এখনো মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো বড় করপোরেট গ্রাহকদের মধ্যে একই মাত্রার গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখনো প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। এ কারণে হঠাৎ করে আনা এই নতুন সাবস্ক্রিপশন মডেল অনেক সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে নেতিবাচক হিসেবেও প্রতীয়মান হতে পারে।

কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা থেকে মেটার আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। যদিও অনেক বিশ্লেষক এসব সম্ভাব্য আয়ের হিসাবকে অতিরিক্ত আশাবাদী বলে মনে করছেন।

আয়ের বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা

মেটার সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মোট আয়ের সিংহভাগই এখনো আসে বিজ্ঞাপন থেকে। দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে রাজত্ব করলেও প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞাপনের বাইরে বড় কোনো আয়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো (যেমন গুগল, অ্যাপল বা মাইক্রোসফট) বিভিন্ন খাতে আয় বৈচিত্র্য আনতে সক্ষম হয়েছে। ফলে মেটাও এখন নতুন ব্যবসায়িক মডেল ও আয়ের বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।

কিছু এআই বিশেষজ্ঞের মতে, এই পেইড সেবাগুলো মূলত প্রতিষ্ঠানটির বিপুল প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের খরচ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টা। উন্নত সুবিধা ও অতিরিক্ত ফিচারের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে মেটা ভবিষ্যতের এআই-কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীরা এই ‘পেইড কালচার’ কতটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 তথ্যপ্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 4   +   2   =