অবসান হচ্ছে দীর্ঘ সংঘাতের: চূড়ান্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক ‘শান্তি চুক্তি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:

 ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

 দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে হবে চুক্তি সই। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

দীর্ঘদিনের তীব্র উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক ‘শান্তি চুক্তি’ চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করবে দুই দেশ।

আজ সোমবার (১৫ জুন) ভোররাতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাম্পের ঘোষণা: ‘তেলের প্রবাহ চলুক’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।”

একই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লিখেন, “আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত দীর্ঘদিনের অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।” বিশ্বের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর উদ্দেশ্যে ট্রাম্প লিখেন, “বিশ্বের জাহাজগুলো, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ চলুক।”

ইরানজুড়ে ‘বিজয়’ উল্লাস

চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো দ্বিপাক্ষিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবরকে প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন প্রশাসন।” রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ইরানি প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই চুক্তিকে ইরানের একটি বড় কূটনৈতিক ও সামরিক বিজয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা ও নেপথ্যের নাটকীয়তা

গতকাল রোববার লেবাননের বৈরুতে ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় ইরান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয়েই তীব্র নিন্দা জানান। সেই চরম উত্তেজনার পারদ চড়ার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাল দুই চিরবৈরী দেশ।

এর আগে, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা করে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছিলেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের ‘ইচ্ছা ও সক্ষমতা’ রাখে না। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র ও সামরিক কমান্ড হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, তাদের ‘আঙুল ট্রিগারে রয়েছে’ এবং তারা কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেন, “বৈরুতে এই হামলা হওয়া মোটেও উচিত হয়নি। বিশেষ করে এমন এক দিনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটল, যখন আমরা ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে রয়েছি।”

এদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা পরিকল্পিত এই ত্রিদেশীয় বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অংশ নয়। লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান কমানোর মার্কিন দাবির বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

  •  যুক্তরাষ্ট্র ইরান চুক্তি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শেহবাজ শরিফ, হরমুজ প্রণালী,  Dainik Purbachal

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 3   +   10   =