প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুন ২০২৬, শনিবার
সময়: দুপুর ১:৩০ মিনিট
ডেইলি পূর্বাচল
সোহেল হাওলাদার
এক সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প ছিল কোটি দর্শকের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। নতুন সিনেমা মুক্তি পেলে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যেত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দর্শক সংকট। এই সংকটের পেছনে নানা কারণ থাকলেও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই যোগ্যতার পরিবর্তে অর্থের প্রভাবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন।: যোগ্যতার পরিবর্তে অর্থের প্রভাবে নায়ক হওয়ার প্রবণতা, দর্শক সংকট এবং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডেইলি পূর্বাচলের বিশেষ বিশ্লেষণ।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যেখানে অভিনয় দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও দর্শক গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে নায়ক হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে গল্প, অভিনয় ও নির্মাণশৈলীর চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, চলচ্চিত্র একটি সৃজনশীল শিল্পমাধ্যম। এখানে একজন অভিনেতার মূল শক্তি হওয়া উচিত তার অভিনয় দক্ষতা, চরিত্র ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতা এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সামর্থ্য। কিন্তু যখন অর্থই প্রধান বিবেচ্য হয়ে ওঠে, তখন চলচ্চিত্রের সামগ্রিক মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের অনেকেই মনে করেন, বর্তমান দর্শক আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু পরিচিত মুখ নয়, বরং শক্তিশালী গল্প, মানসম্পন্ন নির্মাণ এবং বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় দেখতে চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের যুগে দর্শকের সামনে এখন দেশি-বিদেশি অসংখ্য বিকল্প রয়েছে। ফলে নিম্নমানের কনটেন্ট দিয়ে দর্শকদের আকৃষ্ট করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলা চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনতে হলে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা, অভিনয় প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো এবং শিল্পীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরও ব্যবসায়িক চিন্তার পাশাপাশি শিল্পমান ও দর্শকের চাহিদার প্রতি আরও মনোযোগী হতে হবে।
তারা বলছেন, চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেই বিনিয়োগ যদি কেবল ব্যক্তিগত তারকাখ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ দর্শক শেষ পর্যন্ত ভালো গল্প, ভালো নির্মাণ এবং দক্ষ অভিনয়কেই মূল্যায়ন করেন।
চলচ্চিত্র গবেষকদের মতে, বিশ্বের সফল চলচ্চিত্র শিল্পগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম এবং পেশাদারিত্বই শিল্পীদের সাফল্যের প্রধান ভিত্তি। বাংলাদেশেও যদি একই মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তাহলে চলচ্চিত্র শিল্প আবারও দর্শকের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে পারে।
বাংলা চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শিল্পের ভেতরে মানসম্মত চর্চা, নতুন প্রতিভার বিকাশ এবং যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর। দর্শক এখন আর শুধু নায়ক দেখতে চান না, তারা দেখতে চান একজন সত্যিকারের শিল্পীকে।
বাংলা সিনেমা,, বিনোদন সংবাদ, ডেইলি পূর্বাচল,

