ডেস্ক রিপোর্ট, দৈনিক পূর্বাচল
প্রকাশ: ০২ জুন, ২০২৬ | সকাল ০৮:৫৫
ঢাকা: উদ্ভিদের রোগবালাই দমনে সাধারণত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহারই বেশি দেখা যায়। তবে ক্ষতিকর কীটনাশক বর্জন করে বিষমুক্ত উপায়ে ফসল রক্ষার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন নেত্রকোনার কৃষকেরা। জেলার আটপাড়া উপজেলার একটি কৃষক সংগঠন গড়ে তুলেছে ‘ফসলের হাসপাতাল’, যেখানে রোগাক্রান্ত শস্যের প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব চিকিৎসা সমাধান দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
উদ্যোক্তারা বলছেন, মাঠের শস্য পোকা-মাকড় কিংবা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হলে তারা কৃষকদের রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ না করার পরামর্শ দেন। এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমন ও বালাই নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শিখিয়ে দেওয়া হয় এই হাসপাতালে।
‘ফসল হাসপাতাল’ ব্যবস্থাপনায় জড়িত আবদুল ওয়াদুদ খান বিবিসি বাংলাকে জানান, “কৃষকরা রোগাক্রান্ত শস্যের নমুনা বা স্যাম্পল নিয়ে আমাদের হাসপাতালে আসেন। আমরা মূলত কোন রোগের জন্য কোন প্রাকৃতিক ঔষধ লাগবে এবং সেটা কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার করতে হবে, সেই পরামর্শ দিয়ে থাকি।” তিনি আরও জানান, এই হাসপাতালে পরামর্শ দেওয়ার কাজটি করেন তাদের নিজস্ব কৃষক সংগঠনেরই বেশ কয়েকজন সুপ্রশিক্ষিত সদস্য।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমরাও এই ‘ফসল হাসপাতালের’ কথা শুনেছি। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সেবা দেওয়ার এই উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে এর উদ্যোক্তাদের সঠিক ও অথেনটিক (নির্ভুল) পরামর্শ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষকদের এই ব্যতিক্রমী ‘ফসল হাসপাতাল’ পরিচালনায় কারিগরি ও আনুষঙ্গিক সহায়তা দিচ্ছে ‘বারসিক’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। সংস্থাটির নেত্রকোনা অঞ্চলের সমন্বয়ক অহিদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই হাসপাতালে সবজি চাষিরাই সবচেয়ে বেশি আসছেন এবং প্রাকৃতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান পেয়ে তারা বেশ উপকৃত হচ্ছেন।
তবে উদ্যোক্তারা জানান, ধান চাষিদের এই হাসপাতালে আসার হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম। কারণ, ধান চাষিরা এখনো দ্রুত ফলাফলের জন্য রাসায়নিক কীটনাশকের ওপরই বেশি নির্ভর করতে চান। তবে শাকসবজিসহ অন্যান্য শস্য চাষের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষকেরা নিয়মিত এই ‘ফসল হাসপাতালে’ এসে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন।
পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে নেত্রকোনার আটপাড়ার কৃষকদের এই ‘ফসলের হাসপাতাল’ মডেল সারা দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা)

