মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ: বাজেট অধিবেশনের আগেই শপথ নিতে পারেন নতুন ৫ মুখ

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

সরকারের সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিন সফলভাবে পার হওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠেয় বাজেট অধিবেশনের আগেই অন্তত পাঁচজনকে নতুন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

সরকার এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বিশ্বস্ত নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অতিরিক্ত দায়িত্ব কমছে হেভিওয়েট মন্ত্রীদের

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। একই দিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আরও ৪৯ জন। সরকারের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশাসনিক সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে দুই থেকে তিনটি করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে দিন দিন কাজের পরিধি ও জনগুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় একক মন্ত্রীর পক্ষে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রশাসনিক দক্ষতা ও কাজের গতি বাড়াতে বর্তমানে যেসব মন্ত্রীর অধীনে একাধিক দপ্তর রয়েছে, তাদের কাজের ভার কমানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, তাদের একটি মূল মন্ত্রণালয় রেখে অতিরিক্ত দপ্তরগুলো নতুনদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে।

এক নজরে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য নতুন মুখ:

নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম তালিকায় এসেছে, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া (Vetting) এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতি ভবনে তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন যারা:

  • এবিএম মোশাররফ হোসেন (সংসদ সদস্য, পটুয়াখালী-৪)

  • মাহিদুর রহমান (বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা)

  • মো. আবুল কালাম (সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৯)

  • এরশাদ উল্লাহ (সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম-৮)

  • আঞ্চলিক ভারসাম্য: ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নোয়াখালী অঞ্চল থেকে হেভিওয়েট আরও একজন সদস্যকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকারের শীর্ষ মহল।

‘বাস্তবায়ন ও ফলাফল’ দেখানোর নতুন ধাপ

সরকারের প্রথম ১০০ দিনকে মূলত ‘পরিকল্পনা ও ভিত্তি তৈরির সময়’ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। এবার সরকার পূর্ণ গতিতে মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তবায়ন দেখাতে চায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা বলেন,

“প্রথম ১০০ দিন পার হওয়ার পর সরকার এখন সম্পূর্ণভাবে ‘বাস্তবায়ন ও ফল দেখানো’র (Delivery and Results) দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এজন্য মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ হলে কাজের গতি বহুগুণ বাড়বে।”

মন্ত্রিসভায় এই রদবদল ও সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেন, “মন্ত্রিসভায় রদবদল বা নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি নীতিনির্ধারণী বিষয়। সময়মতো এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

পর্যবেক্ষকদের অভিমত

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিস্তার, কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনা ও উদ্যোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারে বেশ কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এসেছে। বিশেষ করে কয়েকটি মেগা ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (PMO) তদারকিতে থাকায় কাজের গতি বেড়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মন্ত্রীদের ভূমিকা আরও স্বকীয় এবং শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে প্রধানমন্ত্রীর ওপর একক নির্ভরতা কিছুটা কমে। এমন বাস্তবতায় বাজেট অধিবেশনের ঠিক আগে মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যুক্ত করার এই সিদ্ধান্তকে সরকারের আগামী দিনগুলোর প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 5   +   7   =