আমার ছেলে এত খারাপ:বাবা জেকের আলী

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা (৮) হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানাকে ঘিরে তার গ্রামের বাড়িতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টির পর এই ঘটনায় বিচার চেয়েছে তার পরিবারও। তারা বলছেন, এটাই সোহেল রানার একমাত্র অপকর্ম নয়। এর আগেও জুয়া-চুরিসহ নানা ধরণের অপরাধের কারণে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।
শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় আলোচনায় আসা সোহেল রানার বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলায়।
তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহেল রানার বিরুদ্ধে রড চুরির একটি মামলা রয়েছে। সে মামলায় জামিন পাওয়ার পর এলাকা ছাড়ে সোহেল। বাবার নাম জাকের। রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানাকে নিয়ে তার নিজ গ্রাম নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের মহেশচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ায় চলছে সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশের পর হতবাক হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানায়, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়া খেলতে গিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ কারণে পরিবারে অশান্তি দেখা দিলে প্রায় ৩ বছর আগে তার বাবা জাকের আলী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর সে আর গ্রামের বাড়িতে ফেরেননি। একসময় মহেশচন্দ্রপুর বাজারে সাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন সোহেল। পাশেই তার বাবা ও সাইকেল মেকানিক কাজ করে। এখনও মেকানিক কাজ করেই সংসার চালান জাকের। এলাকার নিরীহ মানুষ হিসেবে পরিচিত জাকের। তবে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন সোহেল রানা।
সোহেল রানার একমাত্র  বোন জলি বেগম বলেন, বিভিন্ন অপকর্ম আর ঋণের কারণে বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর সে আর বাড়িতে আসেনি। বিভিন্ন জায়গায় তার ছবি দেখে আমরাও হতবাক। প্রায় ৩ বছর আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন সোহেল রানা। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন তিনি। প্রথম পক্ষের একটি সন্তান রয়েছে, তার নাম মিনহাজ। সে দাদা, দাদির কাছেই থাকে।

এদিকে সোহেল রানার বাবা-মায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাওনি ও টিনের বেড়ার বাড়ির ভেতরে শুনশান নীরবতা। বাইরে থেকে ডাকতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন সোহেল রানার মা খদেজা বেগম।
ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব ছেলের প্রতিই বাবা-মায়ের ভালোবাসা থাকে। কিন্তু রানা যা করেছে, এরপর আর তাকে ভালোবাসা যায় না। আমরা তার বিচার চাই, শাস্তি চাই। সে খুবই খারাপ কাজ করেছে। তখন তার মাথায় যেন শয়তান ভর করেছিল।
বাবা জেকের আলী বলেন, আমার ছেলে এত খারাপ একটা কাজ করতে পারে বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কাজটা তো সে করেছে। আমি ওর বিচার চাই। আইন আদালত যে শাস্তি দিবে আমরা তা মেনে নেবো।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 2   +   3   =