রূপগঞ্জের তারাব পৌর এলাকায় ময়লার ভাগাড়, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী

রূপগঞ্জে এখন যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা। মহাসড়কের পাশে যেন ময়লার ভাগাড়। প্রশাসণের নাকের ডগায় এগুলো ফেলা হলেও অদৃশ্য কারণে স্থানীয় প্রশাসণ একেবারেই নীরব।

গোলাকান্দাইল, ভুলতা ফ্লাইওভারের নিচে, মুড়াপাড়া বাজার, বিভিন্ন হাইওয়ে সড়ক ও ঢাকা- সিলেট মহাসড়কসহ তারাব পৌরসভায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব।

জানা গেছে, উপজেলার তারাব পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মাসাব গ্রামের আবাসিক এলাকায় পৌরসভার সব ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এখানে গৃহস্থালির বর্জ্য থেকে শুরু করে হাসপাতাল-ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা হয়। এলাকার বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাকগুলো থেকে ময়লা বহনের সময় তা রাস্তায় পড়ে পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধ ছড়ায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাসাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নামে (ক, তফসিলের) লিজ নেওয়া ৬০ শতাংশ জমিতে বছরখানেক আগে ময়লা ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। সে জমিতে ৫/৬ মাস আগে ময়লা ফেলা শুরু শুরু হয়। কিছুদিন ময়লা ফেলার পর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ মিছিল ও আন্দোলন শুরু করে। তখন পৌরসভার লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গত রমজানের আগে ময়লা ফেলা বন্ধ করে। কিন্তু ঈদের সপ্তাহখানেক পর থেকে ফের ময়লা ফেলা শুরু করে পৗর কর্তৃপক্ষ। এ ময়লা-আবর্জনার উৎকট দুর্গন্ধে আশপাশের শতশত পরিবারের সেখানে টেকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে ওই পথে যাতায়াতকারী স্কুল শিক্ষার্থীরাসহ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, যে করেই হোক এই ময়লার ভাগাড় যেন অবিলম্বে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মাসাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম বলেন, ময়লায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। জনদুর্ভোগ এড়াতে এ ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ভাগাড়-সংলগ্ন বাসিন্দা গৃহবধূ রাশিদা বেগম বলেন, তার স্বামী পেশায় গার্মেন্টস কর্মী। ভাগাড় থেকে সবসময় তীব্র দুর্গন্ধ আসে। গন্ধে বাচ্চার প্রায় পেটের সমস্যা, সর্দি ও কাশি হয়। বৃষ্টির পর যখন রোদ ওঠে তখন গন্ধ আরও তীব্র হয়। ঘরের দরজা ও জানালা বন্ধ রাখতে হয়।

আউয়াল আলি বলেন, মাসাব আবাসিক এলাকায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ময়লা ফেলা শুরু করলে কিছুদিন পর স্থানীয় জনগণ বাঁধ সাধে। এতে রোজার মাসে ময়লা ফেলা বন্ধ থাকে। পরে পৌরসভার একটি প্রতিনিধি দল স্পটে এসে উপস্থিত ২/৪ জনের সঙ্গে কথা বলে আবার ময়লা ফেলা শুরু করে। তিনিও এ ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

তারাব পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাসেল খান বলেন, আবাসিক এলাকায় মাসাব বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জায়গায় ময়লার ভাগাড় করার প্রশ্নে তখনো আমি বিরোধিতা করেছিলাম। এখন এলাকাবাসীর দুর্দশা দেখে আমি মর্মাহত। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। অন্যত্র জায়গা ব্যবস্থা করে দ্রুত ময়লা ফেলা বন্ধ করার কাজ চলছে।

এ বিষয়ে তারাব পৌরসভার সচিব তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ভুলতা, গোলাকান্দাইলের ময়লা অপসারণ করা হয়েছে। ওখানে ফুলের টব রাখা হযেছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকার ময়লার সমস্যার সমাধান করা হবে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 10   +   7   =