রেকর্ড সংখ্যক সেলুন দেউলিয়া

এক সময়ের স্থিতিশীল ও জনপ্রিয় সৌন্দর্যসেবা খাত এখন ভয়াবহ সংকটে পড়েছে জাপানে। দেশটিতে গত বছর রেকর্ড সংখ্যক ২৩৫টি চুল কাটার সেলুন দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করেছে। অর্থনৈতিক চাপ, বাড়তি পরিচালন ব্যয় ও দক্ষ কর্মীর সংকট মিলিয়ে খাতটিতে নেমে এসেছে বড় ধরনের ধস।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এর আগে ২০২৪ সালে ২১৫টি সেলুন দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করেছিল, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে সেই রেকর্ডও ভেঙে গেছে।

এই সংকটের প্রভাব পড়েছে সেলুনগুলোর গড় টিকে থাকার সময়ের ওপরও। ২০২৪ সালে একটি সেলুনের গড় আয়ুষ্কাল ছিল ১৪ দশমিক ১ বছর। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ বছরে। বর্তমানে চালু থাকা সেলুনগুলোর প্রায় অর্ধেকের বয়স ১০ বছরেরও কম।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি করোনাকালের চেয়েও কঠিন। মহামারির সময় সরকারি ভর্তুকি, স্বল্পসুদ ও সুদমুক্ত ঋণের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পেরেছিল। সে কারণে ২০২১ সালে দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা নেমে এসেছিল মাত্র ৬৮-তে।

বর্তমান সংকটের সঙ্গে ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কিছু মিল থাকলেও এবারের কারণ ভিন্ন। তখন মানুষ খরচ কমাতে শুরু করলে কম খরচের চুল কাটার প্রতিষ্ঠানগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এতে ব্যয়বহুল বড় সেলুনগুলো চাপে পড়ে যায়।

এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও সেলুন মালিকদের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বড়। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুতের দাম বাড়া এবং প্রসাধনী সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিচালন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে ক্রেতারা কম খরচে সেবা নিতে চাইছেন। ফলে অনেক সেলুনই টিকে থাকতে পারছে না।

শুধু আর্থিক সংকট নয়, কর্মী সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষ কর্মীরা এখন ছোট প্রতিষ্ঠানের বদলে বড় ব্র্যান্ড বা চেইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে বেশি আগ্রহী। ছোট সেলুনগুলো সাধারণত নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের নিয়োগ দিলেও তাদের অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনায় চাকরি ছেড়ে দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানে প্রয়োজনের তুলনায় সেলুনের সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গেছে। ফলে তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য টিকে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 10   +   3   =