শুভ জন্মদিন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে ‘মেগাস্টার’ খ্যাত সোনালি যুগের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, প্রযোজক, পরিচালক, চলচ্চিত্রের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি,
বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাবের আজীবন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য
এবং
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চলচ্চিত্র পরিষদ – এর প্রধান উপদেষ্টা
১৯৬৯ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ দত্ত পরিচালিত ” বিনিময় ” চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা কবরীর বিপরীতে নায়ক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা সিনেমা জগতে প্রবেশ করেন।
১৯৮২ সালে তিনি উজ্জ্বল ফিল্মস লিমিটেড এর
” নালিশ ” ছবির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
“আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল ” জন্মদিনের শুভেচ্ছা…
ষাটের দশক থেকে শুরু করে এখনও দাপটের সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক উজ্জ্বল। পুরো নাম আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল হলেও তাকে সবাই মেগাস্টার উজ্জ্বল নামেই চেনেন। ষাটের দশকে নায়ক হিসেবে অভিষিক্ত হয়ে প্রায় ১৫০-২০০ টিরই বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। প্রথম দিকে রোমান্টিক হিরো হিসেবে কাজ করলেও পড়ে অ্যাকশন হিরো হিসেবে পরিচিতি পান। শুরুর দিকে অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করলেও ক্যারিয়ার এবং কোয়ালিটির কথা চিন্তা করে ছবির সংখ্যা কমিয়ে দেন তিনি। এরপর থেকে চলচ্চিত্রাভিনেতা হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত।
উজ্জ্বল ১৯৪৬ সালের ২৮ এপ্রিল, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাবনা শাহজাদপুরের জৈন্তিহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে এম এ সম্পন্ন করেন ১৯৭০ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়েই সম্পৃক্ত হন নাট্য আন্দোলনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং টিএসসি কেন্দ্রিক যে সব নাটক মঞ্চস্থ হতো তার প্রায় সবটাতেই নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। তার নায়িকা ছিলেন সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া রুবিনারূপী আজকের বরেণ্য অভিনেত্রী সুজাতা। মঞ্চ নাটকের কল্যাণেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তার নাম। মঞ্চের পাশাপাশি টিভি নাটকেও ছিল তার সরব উপস্থিতি। এরপরই তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহ দেখান অনেকেই। ১৯৭০ সালে সুভাষদত্তের ‘বিনিময়’ চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে অভিষিক্ত হন। সে ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন কবরী।
দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে উজ্জ্বল অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে দুটি মন দুটি আশা, অনুভব, অনুরাগ, নালিশ, নসীব, কুদরত, ফকির মজনুশাহ, বলাকা মন, কাচের স্বর্গ, নিজেরে হারায়ে খুঁজি, শনিবারের চিঠি, অপবাদ, অপরাধ, সমাধি, পিঞ্জর, দম মারো দম, বাংলার মুখ, অগ্নি শিখা, অচেনা অতিথি, বন্ধু, দাবী, মহেশখালীর বাঁকে, বেদ্বীন, দোস্তী, আমির ফকির, উছিলা, ঘর সংসার অন্যতম। উজ্জ্বল এক সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। উজ্জ্বল ফিল্মস লিমিটেড নামে তার একটি প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে। সে প্রযোজনা সংস্থা থেকে ১০-১৫ টি ছবি প্রযোজনা করেছেন তিনি।


