বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় কাজের বেটি রহিমা। রায়হান মুজিব পরিচালিত এই ছবিটি শুধু একটি গল্প নয়—এটি এক সময়ের আবেগ, দর্শকের অনুভূতি এবং অভিনয়ের শক্তির প্রতিচ্ছবি।
বিশেষ করে প্রয়াত অভিনেতা জসিম—যার উপস্থিতি পর্দায় মানেই ছিল শক্তি, আবেগ আর বাস্তবতার মিশেল। ছবিটিতে অন্ধ চরিত্রে অভিনয় করা শাবানার চোখের অপারেশনের জন্য জসিমের বক্সিং লড়াই আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে।
প্রথম দিকে প্রতিপক্ষের আঘাতে বারবার মাটিতে লুটিয়ে পড়া, তারপর নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলা—এই দৃশ্যগুলোতে জসিমের অভিনয় যেন এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। তার চোখের চাহনি, শরীরী ভাষা এবং দৃঢ়তা দর্শকদের আবেগতাড়িত করে তোলে।
চলচ্চিত্রের ক্লাইম্যাক্স অংশেও ছিল তীব্র নাটকীয়তা। প্রতিপক্ষ মাহবুব খানকে কৌশলে প্রতিহত করে জসিম ও নূতন—বিশেষ করে হাসপাতালের ছাদের সেই দৃশ্য আজও অনেকের স্মৃতিতে জীবন্ত।
আজকের প্রজন্মের অনেকেই হয়তো সেই সময়ের সিনেমা হলের অভিজ্ঞতা পায়নি। বড় পর্দায় জসিমের সেই শক্তিশালী উপস্থিতি, দর্শকের করতালি আর আবেগঘন মুহূর্ত—সবই যেন এখন স্মৃতির অংশ।
সময়ের পরিবর্তনে দর্শকের রুচি ও মাধ্যম বদলেছে, তবে জসিমের মতো অভিনেতার অভিনয় এখনও প্রাসঙ্গিক। তার কাজগুলো নতুন করে তুলে ধরা হলে, নতুন প্রজন্মও বুঝতে পারবে—কেন তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য শক্তির নাম।
রিপোর্টটি প্রস্তুত করেছেন:
সোহেল হাওলাদার
নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল


