বাংলা ও পাকিস্তানের চলচ্চিত্র জগতে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাদের অবদান সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও সমানভাবে আলো ছড়ায়। সেই তালিকার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শবনম। রূপ, গুণ এবং অভিনয় দক্ষতায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন দুই দেশের দর্শকের হৃদয়ের প্রিয় মুখ।
১৯৪৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর প্রকৃত নাম ছিল ঝর্ণা বসাক। শৈশবেই শিল্পের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় তাঁর। বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর শিল্পীজীবনের পথচলা, যা পরবর্তীতে তাকে নিয়ে যায় রুপালি পর্দার আলোকিত জগতে।
১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এই চলচ্চিত্রেই পরিচালক তাঁর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘শবনম’—যে নামই পরবর্তীতে হয়ে ওঠে কিংবদন্তি। এরপর ১৯৬২ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘চান্দা’য় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি পুরো পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ‘আম্মাজান’, ‘নাচের পুতুল’, ‘রাজধানীর বুকে’, ‘আমার সংসার’ এবং ‘কখনো আসেনি’সহ বহু চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, অর্জনের দিক থেকেও তিনি ছিলেন অসাধারণ। পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রেকর্ড ১২ বার নিগার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এছাড়া ২০১৯ সালে তাঁকে প্রদান করা হয় আজীবন সম্মাননা—যা তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি বহন করে।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৬৪ সালে তিনি বিয়ে করেন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক রবিন ঘোষ-কে। তাঁদের একমাত্র সন্তান রনি ঘোষ। রবিন ঘোষের সুর ও শবনমের অভিনয় একসঙ্গে বাংলা ও পাকিস্তানি সংস্কৃতিতে এক অনন্য মেলবন্ধন সৃষ্টি করে।
সময়ের পরিক্রমায় অনেক শিল্পী হারিয়ে গেলেও শবনম রয়ে গেছেন এক জীবন্ত ইতিহাস হয়ে। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
ডেইলি পূর্বাচল তাঁর প্রতি জানায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।


