নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল
ঢাকা, ২ নভেম্বর ২০২৬:
রাজধানী ঢাকার ওয়ারীতে বিশেষ প্রযুক্তির ল্যাব তৈরি করে সিনথেটিক মাদক ‘কুশ’ চাষের অভিযোগে মার্কিন নাগরিক তৌসিফ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
রাজধানীর ওয়ারীর একটি বাসায় বিশেষ প্রযুক্তি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ল্যাব গড়ে তুলে সিনথেটিক মাদক ‘কুশ’ (Kush) চাষের অভিযোগে মার্কিন নাগরিক তৌসিফ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গত রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে ওয়ারী থানাধীন র্যাংকিন স্ট্রিটের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
অধিদপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানকালে কুশ চাষের ওপর বিশেষ কৌশল রপ্ত করেন তৌসিফ। পরবর্তীতে দেশে ফিরে তিনি নিজের বাসার ছাদে টিন ও ফয়েল পেপার ব্যবহার করে একটি বিশেষ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত ল্যাব বা কক্ষ তৈরি করেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকেও তিনি এই ল্যাবের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও কুশ চাষের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
যেভাবে ধরা পড়ল চক্রটি
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ইয়াবা পাচারের একটি চালান জব্দের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়েই তৌসিফের সম্পৃক্ততা পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই সময় তার এক বান্ধবী ও বাসার তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হলেও পলাতক ছিলেন তৌসিফ। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানায় এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা নজরদারির সূত্র ধরে গত ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত ওয়ারীর র্যাংকিন স্ট্রিটের ওই বাসায় অভিযান চালায় ডিএনসি।
উদ্ধারকৃত আলামত
অভিযানকালে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অবৈধভাবে আমদানিকৃত কুশের বীজ, টবে চাষ করা তাজা গাছ, প্রক্রিয়াজাত কুশ এবং চাষাবাদে ব্যবহৃত বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি মদ এবং সিসা সেবনের নানা উপকরণও জব্দ করা হয়।
মাদক সরবরাহ ও তদন্ত অব্যাহত
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌসিফ ঢাকার বিভিন্ন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর কাছে নিয়মিত ইয়াবা ও কুশ সরবরাহের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। এই চক্রের মূল উৎস, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে ডিএনসির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


