স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক পূর্বাচল:
দেশের আধুনিক ও বহুতল বিপণিবিতানগুলোর ব্যবসা এখন অস্তিত্ব সংকটে। ক্রেতাশূন্যতার কারণে অনেক নামী-দামী বহুতল মার্কেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আবার কোনোটি বন্ধের দ্বারপ্রান্তে। মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে এই নজিরবিহীন মন্দার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে—পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য, ক্রেতাদের সাথে বিক্রেতাদের অপেশাদার আচরণ এবং প্রবেশদ্বারের ফুটপাত জুড়ে অবৈধ ব্যবসার রমরমা প্রসার।
এই বিষয়ে দৈনিক পূর্বাচল-এর নির্বাহী সম্পাদক সোহেল হাওলাদার বলেন, “আধুনিক শপিংমলগুলোর টিকে থাকার জন্য ক্রেতাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় পণ্যের চড়া দাম নির্ধারণ এবং ক্রেতাদের সাথে অপেশাদার আচরণ ব্যবসা ধ্বংসের মূল কারণ। এর পাশাপাশি মার্কেটের সামনের ফুটপাত অবৈধভাবে দখল হওয়ার কারণে মূল ধারার ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রশাসন ও মার্কেট মালিকদের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত ফুটপাত মুক্ত করা এবং পণ্যের যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে এই খাত আরও বড় সংকটে পড়বে।”
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বহুতল মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও এসি চার্জের কারণে পণ্যের মূল্য সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিক্রেতাদের অমার্জিত আচরণ। অনেক ক্রেতাই অভিযোগ করেছেন, পণ্য পছন্দ না হলে বা দরদাম করলে বিক্রেতারা দুর্ব্যবহার করেন, যা মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে মার্কেটবিমুখ করে তুলছে।
অন্যদিকে, এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে মার্কেটের ঠিক সামনের ফুটপাতগুলোর অবৈধ দখলদারি। একই মানের পণ্য ফুটপাতে অনেক কম দামে পাওয়ায় সাধারণ মানুষ আর বহুতল মার্কেটের ভেতরে ঢুকছেন না। ফলে বিপুল বিনিয়োগে তৈরি আধুনিক শপিংমলগুলো এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের খুচরা ব্যবসা খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কেট মালিক অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে পণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ, ক্রেতা সেবার মান উন্নয়ন এবং ফুটপাত মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।


