বিনোদন

টাইগার নয়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মূল টার্গেট ছিলেন আমির খান!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেইলি পূর্বাচল

২৬ অক্টোবর ২০২৬

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ভারতীয় পুলিশের তদন্তে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী টাইগার নয়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মূল টার্গেট ছিলেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান। তবে নিরাপত্তা ও গতিবিধির কারণে লক্ষ্য পরিবর্তন করে টাইগারকে নিশানা করা হয়।

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর গুলি চালানোর ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতীয় পুলিশের দাবি, একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর হামলার আসল নেপথ্য রহস্য ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, শুরুতে হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান; কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে জ্যাকি শ্রফপুত্র টাইগারকে নিশানা করা হয়।

কেন ছিল আমির খানের ওপর ক্ষোভ?

ভারতের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৌরি স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর থেকেই আমির খানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিল গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠী। ভিন্ন ধর্মের নারীকে বিয়ে করার মাধ্যমে আমির ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রচার করছেন বলে অভিযোগ তোলে কুখ্যাত এই অপরাধী চক্র। এ নিয়ে এর আগেও অভিনেতাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

বিষ্ণোই গোষ্ঠীর দাবি ছিল, আমিরের এই বিবাহ তাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ডের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্য হুমকি

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাইসন বিষ্ণোই ও আরজু বিষ্ণোইয়ের নামে তৈরি করা কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে একটি তীব্র হুমকিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়:

“আমরা, আরজু বিশ্নোই এবং টাইসন বিশ্নোই (লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠী), আমির খানের মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে আমাদের দেশে আমাদের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর নামে এই কাজের প্রচার হতে দেখছি। আমরা এসব বরদাস্ত করব না এবং দ্রুত এর উপযুক্ত জবাব দেব। এই কাজ আমাদের সনাতন ধর্ম এবং দেশের বিরুদ্ধে। তারকাখ্যাতির আড়ালে যারা এই কাজের প্রচার করছে, তাদের দম বন্ধ করে দেব।”

পরিকল্পনা বদলের নেপথ্য কারণ

ওই হুমকির পরপরই আমির খানকে আক্রমণের সুযোগ খুঁজতে শুরু করে দুর্বৃত্তরা। অভিনেতার গতিবিধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছিল। তবে আমির খান খুব একটা জনসমক্ষে বা অপ্রয়োজনে বাইরে না আসায় হামলাকারীদের মূল পরিকল্পনা বারবার ব্যাহত হয়।

শেষ পর্যন্ত আমিরের নাগাল না পেয়ে লক্ষ্য পরিবর্তন করে গ্যাংটি। তুলনামূলকভাবে ঘন ঘন বাইরে যাতায়াত করার কারণে শেষ পর্যন্ত টাইগার শ্রফকে নিশানা করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

১৮ অক্টোবরের সেই হামলা

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৮ অক্টোবর অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়া হলে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান এই তরুণ অভিনেতা। তবে এই আকস্মিক হামলায় তার গাড়িচালকসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। হামলার পরপরই কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এই ঘটনার দায় স্বীকার করে।

বর্তমান পরিস্থিতি

এদিকে হামলার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ঘটনার ভয়াবহতা ও মানসিক ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি টাইগার শ্রফ। যে কারণে তিনি এখনো পুলিশের কাছে নিজের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা জবানবন্দি দিতে পারেননি। তবে এ ঘটনায় টাইগারর গাড়িচালক ফেরদৌস বালোচ ও ভ্লগার উমেদসহ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment