এপস্টিন নথি: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এল

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) আরও কিছু নথি প্রকাশ করেছে। যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত এসব নথিতে এক অজ্ঞাতনামা নারীর সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা আছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে কিশোর বয়সে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেছিলেন।

২০১৯ সালে এফবিআই চারবার ওই নারীর জবানবন্দি নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে দোষী সাব্যস্ত যৌন নিপীড়নকারী জেফরি এপস্টিনের বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে ওই জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল।

এর আগে বিচার বিভাগ কেবল জবানবন্দি নেওয়ার কথা নিশ্চিত করে একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। তখন ওই চারটি সাক্ষাৎকারের মধ্যে কেবল একটি সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে ওই নারী অভিযোগ করেছিলেন, কিশোরী বয়সে এপস্টিন তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে নতুন নথিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ওই নারী দাবি করেছেন, ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে এপস্টিন তাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ১৩-১৫ বছর। পরে ট্রাম্প তাঁকে জোর করে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন।

এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, এই নারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।

কিছু নথিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উসকানিমূলক দাবি থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। রয়টার্স স্বাধীনভাবে ওই নারীর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এফবিআইয়ের নথি থেকে জানা গেছে, সংস্থার কর্মকর্তারা ২০১৯ সালে তাঁর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছে, বৃহস্পতিবার যেসব নথি প্রকাশ করা হয়েছে, তা ভুলবশত ‘প্রতিলিপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা ১৫টি নথিরই অংশ। ‘প্রতিলিপি’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে এগুলো আগে প্রকাশ করা হয়নি।

বিচার বিভাগ কংগ্রেসের নজরদারির মধ্যে আছে। কারণ, এপস্টিন তদন্তের নথি প্রকাশ করা তাদের বাধ্যবাধকতা। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করে আসছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্প–সম্পর্কিত কিছু নথি লুকাচ্ছে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে সমন পাঠিয়েছে, যাতে আইনপ্রণেতারা জানতে পারেন, সরকার কীভাবে এসব নথি পরিচালনা করছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment

Prove your humanity: 0   +   10   =