নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে আর্চওয়ে ও লাগেজ স্ক্যানার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমটিসিএল। বিস্তারিত জানুন দৈনিক পূর্বাচলে।
ঢাকা: রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় স্টেশনে প্রবেশের আগেই যাত্রীদের দেহ ও মালামাল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যেসব আধুনিক সরঞ্জাম বসছে
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় প্রতিটি স্টেশনের প্রবেশপথে স্থাপন করা হবে—
-
আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর (Archway Metal Detector): যা দিয়ে যাত্রীদের শরীরে বহন করা যেকোনো ধরনের ধাতব বস্তু সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
-
লাগেজ স্ক্যানার (Baggage Scanner): যার মাধ্যমে যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ, ট্রাভেল ব্যাগ এবং অন্যান্য মালামাল স্কিন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে মেট্রোরেল স্টেশনে প্রবেশের সময় যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল পরীক্ষা করা যাবে। পাশাপাশি শরীরে বহন করা ধাতব বস্তু শনাক্ত করাও সহজ হবে।”
অনলাইন দরপত্র আহ্বান
প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংগ্রহের লক্ষ্যে গত ১৯ অক্টোবর অনলাইনে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএল। সংস্থাটির স্টোর অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই দরপত্র আহ্বান করেন।
আগ্রহী ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের মাধ্যমে দরপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পোর্টাল থেকেই এসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নির্দেশিকা জানা যাবে। তবে নির্দিষ্ট কতগুলো যন্ত্র কেনা হবে, কোন কোন স্টেশনে প্রথম ধাপে এগুলো বসবে এবং কবে নাগাদ নিয়মিত তল্লাশি শুরু হবে—এ বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
ডিপোর বৈদ্যুতিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত
নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি একই দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬-এর ডিপোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় থাকবে—
-
লো-ভোল্টেজ (এলভি) ব্যবস্থা
-
ডিজেল জেনারেটর সেট
-
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা (ইউপিএস)
-
বায়ু চলাচল ব্যবস্থা (ভেন্টিলেশন) এবং অন্যান্য সাধারণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দরপত্রের নথি কেনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামগুলো চালু হলে মেট্রোরেল স্টেশনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও তল্লাশির সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।


