APORAD • sara desh

টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের অভিযোগ: শিক্ষক গ্রেপ্তার, পাল্টা মামলা | পূর্বাচল

গাজীপুর প্রতিনিধি | দৈনিক পূর্বাচল

গাজীপুরের টঙ্গীতে ৭ বছরের শিশু নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার। অন্যদিকে মাদ্রাসায় হামলা, মারধর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে পাল্টা মামলা দায়ের। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।

টঙ্গী (গাজীপুর): গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে মাদ্রাসায় হামলা, শিক্ষককে রক্তাক্ত মারধর ও জমি কেনার ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে শিশুটির বাবার সঙ্গী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার (যৌন নিপীড়ন) অভিযোগে খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন শিশুটির বাবা। টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে বিচারক তাঁকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাওলানা ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী টঙ্গী পশ্চিম থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন শাহজালাল রুমি বহিরাগত ১০ থেকে ১৫ জন লোক নিয়ে জোরপূর্বক মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। তাঁরা অধ্যক্ষের কক্ষের কাচ ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভাঙচুর চালান। শিশুটিকে ‘ব্যাড টাচ’ করার অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের মাথায় ভারী স্টেপলার দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। বাধা দিতে গেলে উপাধ্যক্ষ, অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং নিরাপত্তাপ্রহরী দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। একই সাথে অধ্যক্ষের কক্ষে জমি কেনার উদ্দেশ্যে রাখা নগদ ১৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে মাদ্রাসার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অধ্যক্ষ মাওলানা আলমাছ হোসেন বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষক একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে শেষ বর্ষে পড়ছেন এবং তিনি দৈনিক মাত্র ৩ ঘণ্টা খণ্ডকালীন ক্লাস নিতেন। বহিরাগতদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। ১৭ লাখ টাকা লুট ও তাণ্ডবের সমস্ত দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হতে হবে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালানো ও ডাকাতি গ্রহণযোগ্য নয়। ‘শানে সাহাবা খতিব ফাউন্ডেশন’সহ একাধিক সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এ ধরনের ‘মব কালচার’ বা মব জাস্টিসের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, শিক্ষককে ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলার অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment