স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক পূর্বাচল | কুমিল্লাপ্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ছেলে অপ্রতিম হত্যা মামলায় ২ কিশোরসহ ৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষিকা নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী কিশোর ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতিমের ব্যবহৃত দামী ‘আইফোন’ ছিনিয়ে নেওয়ার লালসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
গত মঙ্গলবার বিকেলে দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজ শুক্রবার জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মামলায় অভিযুক্ত চার আসামি হলো— মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং আইনগত কারণে নাম অপ্রকাশিত ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর।
পেনাল কোড ও শিশু আইনে অভিযোগ
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, দীর্ঘ তদন্ত ও প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে অপরাধে সরাসরি জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা), ২০১ (আলামত গোপন) ও ৩৪ (একই উদ্দেশ্যে অপরাধ সংগঠন) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী অভিযোগপত্রে দুই কিশোরকে ‘শিশু’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তারা বর্তমানে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (টঙ্গী) আটক রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এক সপ্তাহের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। পুলিশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করেছে।
‘দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি পরিবারের’
অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়ে অপ্রতিমের বাবা, স্থানীয় ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, “বৃহস্পতিবারে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তবে মামলার বিস্তারিত কপি এখনো হাতে পাইনি। আমরা চাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হোক।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ চার্জশিট জমা দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার সার্বিক অগ্রগতির তথ্য জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
যেভাবে ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক ঘটনা
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিজের ব্যবহৃত আইফোন দিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। ওই দিনই তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড় সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি গভীর জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় আসামিদের চিহ্নিত করে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সমগ্র দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং এতে উদঘাটিত হয় কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এ ঘটনার পরপরই কুমিল্লা জেলা জুড়ে অপরাধী ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে ব্যাপক অভিযান শুরু করে জেলা পুলিশ, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।


