বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৬
-
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকস্মিক পরিদর্শনের পর ৭ দিনের আলটিমেটামে বদলাচ্ছে শিশু হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী ও কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালের চিত্র। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
-
রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে এক পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ব্যস্ততা, ঝকঝকে প্রাঙ্গণ আর চারপাশের তদারকি দেখে যে কারও মনে হতে পারে—হাসপাতালটি হয়তো সবসময়ই এমন থাকে। তবে নিয়মিত যাতায়াত করা রোগী ও দর্শনার্থীরা জানেন, এটি দৈনন্দিন বাস্তবতা নয়; বরং প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের পর তৈরি হওয়া এক সাময়িক চিত্র।
গত শনিবার হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চিহ্নিত ত্রুটিগুলো দূর করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পরপরই বদলে যেতে শুরু করে রাজধানীর একাধিক সরকারি হাসপাতালের ছবি।
হাসপাতালগুলোতে তৎপরতা: কোথাও রং, কোথাও তদারকি কমিটি
প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর শুধু শিশু হাসপাতালই নয়, পরিবর্তন ও তৎপরতার ছোঁয়া লেগেছে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং উত্তরাস্থ কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালেও।
-
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট: প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা জোরদারে ওয়ার্ড, টয়লেট ও বাইরংশের জন্য একাধিক তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সকালের পরিচ্ছন্নতার চিত্র দুপুরের দিকে কিছুটা ম্লান হতে দেখা যায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, রোগী ও স্বজনদের অতিরিক্ত চাপ এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলার অভ্যাসের কারণে সার্বক্ষণিক পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানান, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর ওয়ার্ড ও টয়লেটগুলোর জন্য পৃথক কমিটি করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত ত্রুটিগুলো পুরোপুরি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
-
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল: পরিদর্শনের পর হাসপাতালের বাইরংশ ও খোলা জায়গায় তৎপরতা বাড়লেও বহির্বিভাগের ভেতরের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি বদলায়নি। প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার রোগীর ধারণক্ষমতার তুলনায় শৌচাগারের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাহান গোলাম সারওয়ার জানান, স্থানসংকটের কারণে শৌচাগার বাড়ানো কঠিন হলেও বহির্বিভাগের জন্য আলাদা কমপ্লেক্স নির্মাণ বা সম্প্রসারণের কথা ভাবা হচ্ছে।
-
কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল: শনিবার যেখানে ময়লা ও দুর্গন্ধের রাজত্ব ছিল, রোববার সকালে সেখানে দেখা যায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ। দেওয়ালে নতুন রঙের কাজ চলছে, ছিটানো হয়েছে ব্লিচিং পাউডার। তবে কয়েকটি ওয়ার্ডের ভাঙা দরজা ও পানির কলের সমস্যা এখনো বিদ্যমান। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মিজানুর রহমান জানান, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা দ্রুত সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।
মূল প্রশ্ন: নির্দেশনার চাপ কাটলে পরিচ্ছন্নতা থাকবে তো?
প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর প্রতিটি হাসপাতালেই তড়িঘড়ি করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ শুরু হলেও জনমনে একটি বড় প্রশ্ন রয়েই গেছে—প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের এই সাময়িক চাপ বা সাত দিনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে পরিবেশ কি আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাবে, নাকি এই পরিবর্তন স্থায়ী হবে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল লোকদেখনো তদারকি নয়, বরং স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে হাসপাতালগুলোর সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে।


