আন্তর্জাতিক ডেস্ক, দৈনিক পূর্বাচল:
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘নরক নামিয়ে এনেছে’। পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে তেহরানকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এক প্রকার ‘নরক নামিয়ে এনেছে’। তাঁর এই মন্তব্যের পর তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘এক দিক থেকে ভোটাররা এটি পছন্দ করে, কারণ অন্য প্রেসিডেন্টদের যা করা উচিত ছিল, আমি ঠিক সেই কাজই করছি। অন্যদিকে, হয়তো কেউ কেউ এটি পছন্দ করে না, কারণ এর একটা নির্দিষ্ট মূল্য দিতে হয়। আমি যখন এটি শুরু করেছিলাম, তখনই তা জানতাম। তবে মূল কথা হলো—আমরা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দিতে পারি না।’
তেলের উচ্চ দাম ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চ মূল্যের জন্য ইরানকে সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দাবিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, সংঘাতের আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও বেশি তেল পরিবাহিত হচ্ছে। যদিও তাঁর এই দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো দালিলিক প্রমাণ বা তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইরান চাইলেই তাদের নিজেদের তেল সহজে রপ্তানি করতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন সাধারণ নাগরিকদের কাছে তেলের উচ্চমূল্য কেবল কোনো পরাশক্তিগত বা পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়, এটি সরাসরি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। आगामी ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অর্থনৈতিক চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় একটি রাজনৈতিক দুর্বলতা হয়ে দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


