আন্তর্জাতিক ডেস্ক | দৈনিক পূর্বাচল
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ করেছে ‘নো কিংস’ আন্দোলনকারীরা। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ আমেরিকার ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোথাও দূরপাল্লার গাড়ির বহর নিয়ে হর্ন বাজিয়ে, আবার কোথাও সংগীতালেক্ষ্য ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়। আয়োজকরা জানান, বিশাল কোনো কেন্দ্রীয় সমাবেশের বদলে ছোট ছোট স্থানীয় কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছানো এবং ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটদানে উৎসাহিত করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটি ‘নো কিংস’ প্ল্যাটফর্মের চতুর্থ দফার দেশব্যাপী কর্মসূচি। গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই আন্দোলনের সূচনা হয়। বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ—ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে ধরে একজন ‘রাজা’র মতো ক্ষমতা চর্চা করতে চাইছেন, যা আমেরিকার সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
আন্দোলনের সংগঠকরা জানান, কেবল প্রতিবাদের মধ্যেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সচেতনতা বাড়ানো, ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটাধিকার চালু হয়েছে, সেখানে নাগরিকদের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়াতে তারা কাজ করছেন।
ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিল এলাকার কাছে ছাতা হাতে বিক্ষোভে অংশ নেন ৬৬ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ডেমোক্র্যাট শিক্ষক সাবিন কার্লসন। তার ছাতায় লেখা ছিল, ‘ভোট, ক্ষমতা, জনগণ’। সাবিন বলেন, “সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ বা অভিযোগ তোলার অনেক কারণ থাকতে পারে, কিন্তু সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো ভোট দেওয়া। কোথায় কীভাবে ভোট দিতে হবে, নিজের ভোটার নিবন্ধন ঠিক আছে কি না—এসব বিষয়ে ভোটারদের স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।”
ভোটাধিকার রক্ষায় সক্রিয় মানবাধিকার সংগঠন ‘কমন কজ’-এর তৃণমূল সংগঠক আলমা কুভার্থি বলেন, “ভোট দেওয়াকে নাগরিকরা যেন কেবল একটি বাধ্যবাধকতা মনে না করে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার অংশ হিসেবে দেখেন, আমরা সেটিই নিশ্চিত করতে চাই।”
উল্লেখ্য, চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় লাগামহীন হয়ে পড়েছে। এর জের ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় রেকর্ড ধস নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


