দৈনিক পূর্বাচল স্বাস্থ্য
বয়স ৩০ বা ৪০ পেরিয়েও হঠাৎ কেন মুখে ব্রণ হচ্ছে? হরমোন, মানসিক চাপ ও প্রসাধনীর ভুল ব্যবহারসহ মূল কারণ ও সমাধানের উপায় জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পড়ুন দৈনিক পূর্বাচলে।
বয়স ৩০ কিংবা ৪০-এর ঘর পার হওয়ার পর অনেকেই ভাবেন, কৈশোরের ব্রণের দিন বুঝি বহু আগেই পেছনে ফেলে এসেছেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন সকালে আয়নায় তাকিয়ে চিবুক বা চোয়ালের কাছে যন্ত্রণাদায়ক ব্রণের উপস্থিতি দেখে থমকে যেতে হয়। দৈনিক রূপচর্চা বা রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন না আনা সত্ত্বেও প্রাপ্তবয়সে এমন আকস্মিক ব্রণের আক্রমণ বা ‘অ্যাডাল্ট ব্রেকআউট’ বেশ বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালের সঙ্গেই ব্রণ বেশি যুক্ত হলেও প্রাপ্তবয়সে ত্বকে হুট করে ব্রণ হওয়া একেবারেই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। ত্বকের লোমকূপ যখন অতিরিক্ত সেবাম (তেল) ও মৃত কোষে বন্ধ হয়ে যায়, তখনই প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি হয়ে ত্বকের নিচে এমন ফুসকুড়ি দেখা দেয়। কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে এসে কেন এমনটা ঘটছে? চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের মতে এর পেছনে মূলত চারটি প্রধান কারণ কাজ করে:
১. হরমোনের তারতম্য ও ভেতরের পরিবর্তন
চিবুক ও চোয়ালের চারপাশে বারবার ব্রণ উঠলে এর পেছনে হরমোনের বড় ভূমিকা থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা এবং পেরিমেনোপজের সময় হরমোনের তারতম্য ত্বকে তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণেও হরমোনের কার্যকারিতা প্রভাবিত হয়ে ব্রণ হতে পারে।
২. মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি
অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই কর্টিসল ত্বকের তৈলাক্ততা বৃদ্ধি করে প্রদাহকে আরও যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে।
৩. খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইল
অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার (যেমন: সাদা পাউরুটি, মিষ্টি পানীয় ও পেস্ট্রি) রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ত্বকে সেবাম উৎপাদন উসকে দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত দুগ্ধজাত পণ্য বা জিমের হুই প্রোটিন সাপ্লিমেন্টও অনেকের ক্ষেত্রে ব্রণের ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।
৪. প্রসাধনীর ভুল ব্যবহার বা ‘একনে কসমেটিকা’
অনেক সময় যে মেকআপ দিয়ে ব্রণ ঢাকার চেষ্টা করা হয়, সেটাই লোমকূপ বন্ধ করে সমস্যা জটিল করে তোলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘একনে কসমেটিকা’ বলা হয়। রাতে মেকআপ না তুলে ঘুমানো বা ত্বকের সাথে অনুপযোগী ভারী প্রসাধনী ব্যবহার করা এর জন্য দায়ী।
প্রতিকারে বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন:
-
অপরিচ্ছন্নতা নয়: প্রাপ্তবয়সের ব্রণ অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ নয়। তাই কড়া সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে শক্ত করে মুখ ঘষা যাবে না; এতে ত্বকের প্রদাহ আরও বাড়ে।
-
সহজ স্কিনকেয়ার রুটিন: প্রতিদিনের রুটিনে একটি মৃদু (Mild) ক্লিনজার, লেবেলে ‘নন-কমেডোজেনিক’ (Non-Comedogenic) লেখা রয়েছে এমন হালকা ময়শ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
-
হাত দেওয়া নিষেধ: ব্রণ খোঁটা বা গালানোর অভ্যাস একদম বাদ দিতে হবে, নয়তো মুখে স্থায়ী দাগ বা গর্ত তৈরি হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ব্রণ যদি অতিরিক্ত যন্ত্রণাদায়ক হয়, বারবার ফিরে আসে কিংবা দাগ ফেলে যায়, তবে ঘরোয়া টোটকা না খুঁজে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ব্রণের পাশাপাশি অনিয়মিত মাসিক বা মুখে অতিরিক্ত লোমের সমস্যা থাকলে দ্রুত হরমোনজনিত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।


