সোহেল হাওলাদার, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক পূর্বাচল
একসময়ের মসজিদের ইমাম আব্দুর রশিদ মালিথা কীভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থী আতঙ্ক ‘দাদা তপন’ হয়ে উঠলেন এবং ২০০৮ সালে র্যাবের অভিযানে তার পতন ঘটেছিল—জানুন বিস্তারিত।
“দাদা তপন বলছি”— নব্বইয়ের দশক ও তার পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এই নামটি উচ্চারিত হলেই আঁতকে উঠত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। একসময়ের মাদ্রাসার ছাত্র ও মসজিদের ইমাম আব্দুর রশিদ মালিথা কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের মূর্তিমান আতঙ্ক—তা আজ বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক ভীতিকর অধ্যায়। ২০০৮ সালের ১৮ জুন কুষ্টিয়ায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এই চরমপন্থী নেতা।
মাদ্রাসার ইমাম থেকে যেভাবে উত্থান
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পশ্চিম বিষয়খালী গ্রামের ইবাদত হোসেন মালিথার ছেলে আব্দুর রশিদ মালিথা ওরফে তপন মালিথা কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস পাস করার পর কুষ্টিয়ার একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। পরবর্তীতে তিনি বামপন্থী রাজনীতি হয়ে চরমপন্থী দল ‘পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল জনযুদ্ধ)’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। নিখুঁত ছক, অস্ত্র চালনার দক্ষতা এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দ্রুতই তিনি শীর্ষ নেতৃত্বে চলে আসেন।
রক্তের হোলি খেলা ও ত্রাসের রাজত্ব
খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খুন, চাঁদাবাজি ও বোমাবাজির সমার্থক হয়ে উঠেছিল তপন বাহিনী। বিচারবহির্ভূতভাবে রাজনৈতিক নেতা, ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষকে হত্যার পর তারা ঘটনাস্থলে চিরকুট ফেলে বা ফ্যাক্স বার্তায় দায় স্বীকার করত। ২০০১ সালে কুষ্টিয়া থানায় হামলা চালিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে হত্যা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছিল। তার ১৫ বছরের অপরাধ জীবনে একবারও কারাগারে যেতে হয়নি; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বারবার পালিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি।
যেভাবে এলো সমাপ্তি
২০০৮ সালের ১৮ জুন ভোরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদি স্কুলপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘেরাও করা হয় দাদা তপনকে। র্যাব-১২ ও র্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে তৎকালীন র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ইউনিটের ইনচার্জ মেজর আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে নিহত হন দাদা তপন ও তার সহযোগী রিক্তা আক্তার। এ সময় তার পাশ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থী ইতিহাসের এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটে।


