বিনোদন

গাবতলীতে ১০০ বিঘা জমি আছে, চাঁদাবাজির প্রশ্নই ওঠে না: ডিপজল

নিজস্ব প্রতিবেদক | 

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল हाल ਹੀতে (সম্প্রতি) এক সাক্ষাৎকারে চাঁদাবাজির অভিযোগের তীব্র জবাব দিয়েছেন। গাবতলীতে তার বিশাল সম্পত্তির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, যার শত বিঘা জমি এক দাগেই রয়েছে, তার পক্ষে চাঁদাবাজি করা বেমানান। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর গাবতলীতে তার জমি, পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে যা বললেন ডিপজল

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিপজল তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলেন। নিজের আর্থিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,

“গাবতলীতে আমার একদাগে ১০০ বিঘার ওপরে জমি আছে। তাহলে আমি কেন চাঁদাবাজি করবো? আমি কি ফকিন্নির পোলা নাকি?”

চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সাথে নিজের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত সম্পদের প্রাচুর্য থাকায় তার বা তার লোকজনের পক্ষে এ ধরনের অনৈতিক কাজ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে তার এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন সরকারি নথি বা দলিল প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তার নিজের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

গাবতলী পশুর হাট ও ডিপজলের সম্পৃক্ততা

গাবতলী পশুর হাটের ইজারা এবং এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডিপজলের নাম দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এই হাটের ইজারা পাওয়া এবং নানামুখী জটিলতার কারণে তিনি গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন:

  • ২০২৪ সাল: বাংলা ১৪৩১ সনের গাবতলী পশুর হাটের ইজারার জন্য সর্বোচ্চ ১৭ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা দর দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। নির্ধারিত সময়ে পুরো অর্থ পরিশোধ নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও পরবর্তীতে আদালতের রায়ে তার ইজারা বহাল থাকে।

  • ২০২৫ সাল: এই বছরও গাবতলী হাটের ইজারা প্রক্রিয়ায় তার নাম আসে। একই সময়ে হাটে এক নারীকে মারধর ও এসিড নিক্ষেপের একটি অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

  • ২০৬ সাল: চলতি বছরের জুনে গাবতলীতে জেলা পরিষদের জমি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগে ডিপজলকে জরিমানা করার খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সম্পত্তি ও বিতর্ক

চলচ্চিত্র অঙ্গনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মনোয়ার হোসেন ডিপজলের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য তার অনুরাগীদের পাশাপাশি সমালোচকদের মধ্যেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির দাবি, অন্যদিকে গাবতলী এলাকার বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার বিতর্ক—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment