রাজনীতি

মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারে হামলা: মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও অধরা, গ্রেপ্তার ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক পূর্বাচল

আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |

 মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতারা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা মূলত টাকার বিনিময়ে অংশ নেওয়া ভাড়াটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর মিরপুর-১-এর ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্যে হামলাকারীদের পরিচয় ও নির্দেশদাতাদের নাম সামনে আসলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন মূল পরিকল্পনাকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের অধিকাংশই টাকার বিনিময়ে এই হামলায় অংশ নিয়েছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে উঠে এসেছে যাদের নাম

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনার রাতে শাহ আলী থানার কাছাকাছি থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হয়। পরে সেখান থেকে লাঠি, রামদা ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।

ফুটেজে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছেন— শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ, শামীম, হাসান, থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ওরফে নাডা আওলাদ এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস। এছাড়া হামলার সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজীব হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান ও একমাত্র আসামি হানিফকে গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে। পাশাপাশি লুট হওয়া ৪৬ ধরনের মালামাল, দুটি কাভার্ড ভ্যান ও ভাঙচুরে ব্যবহৃত ভেকু (এক্সকাভেটর) জব্দ করা হয়েছে।

তদন্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন মিরপুর বিভাগের ডিসি হাসান মোহাম্মদ নাছের। তিনি জানিয়েছেন, অপরাধে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সরকারের অবস্থান

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে হামলার ঘটনায় সরকার গভীরভাবে বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজে যাদের নাম আসছে, পুলিশ সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতেই জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।”

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment