অন্যান্য

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও জমি দখল নিয়ে তোলপাড়: মালিকানা নিয়ে কার কী বক্তব্য?

দৈনিক পূর্বাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এর জমি দখল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ১৯৭৪ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষকে মাতৃ ও শিশুসেবা দিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানের জমি নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এখন চরমে পৌঁছেছে। ঘটনার পর জমির বরাদ্দ ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

জমির মূল মালিক ও বরাদ্দ নিয়ে জাগৃকের বক্তব্য

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর সেকশন-১, ব্লক ‘ডি’, এভিনিউ-৪-এর দক্ষিণ পাশের ৬/১ নম্বর প্লটটির মূল মালিক জাগৃক। একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে ৯৯ বছরের জন্য এই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৯ জুন সমবায় সমিতির সভাপতি মোপ্র. আশরাফ উদ্দিনের নামে লিজ দলিল সম্পন্ন হয়।

জাগৃকের বর্তমান চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম গণমাধ্যমকে জানান, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এই জায়গা কখনোই রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।” তবে সমবায় সমিতির মালিকানা থাকলেও জবরদস্তি বা ভাঙচুরের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি আইনিভাবে সমাধান করা উচিত ছিল বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও যুক্তি

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা গত ৫০ বছর ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সর্বশেষ ১৯৮৩ সালে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে তাদের কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

জাগৃকের কাছে কোনো আবেদন না করার কারণ হিসেবে রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি সরকারের আরেকটি মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) অনুমতি নিয়ে জনসেবামূলক কাজ করছে এবং এটি কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নয়, তাই সরকারি জায়গায় সেবামূলক কাজে বাধা আসবে না বলেই তারা ধরে নিয়েছিলেন।

তিনি আরও জানান, ২০২১ সালে সমমনা সমবায় সমিতির সঙ্গে জাগৃকের লিজ দলিল সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে রাড্ডা কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতের রায় হওয়ার আগেই এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল।

প্রশ্নের মুখে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ

৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র একই স্থানে পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও, তাদের না জানিয়ে বা আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ না করে কীভাবে অন্য একটি সমিতির নামে জমি বরাদ্দ দেওয়া হলো—তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তবে বর্তমান জাগৃক কর্তৃপক্ষ পূর্বের এই সিদ্ধান্তের দায় নিতে নারাজ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের এই জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ ও আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

About the author

নিজস্ব প্রতিবেদক

Leave a Comment